ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায় শেষ হয়ে, লিভারপুল এবং বার্সেলোনা সরাসরি শেষ ষোলোতে প্রবেশের নিশ্চিততা পেয়েছে। আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখের আগে ইতিমধ্যে টিকিট নিশ্চিত করার পর, টটেনহ্যাম, চেলসি, স্পোর্টিং সিপি এবং ম্যানচেস্টার সিটি এই ছয়টি দলকে সরাসরি রাউন্ড‑অফে স্থান দেওয়া হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি সহ অন্যান্য দলকে প্লে‑অফ রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
লিভারপুলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অ্যানফিল্ডে কারাবাগ এফসির বিরুদ্ধে ৬-০ বিশাল জয় অর্জন করেছে। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দু’বার গোল করে স্কোরের অগ্রগতি ঘটিয়েছেন, আর ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, মোহাম্মদ সালাহ, হুগো একিতিকে ও ফেদেরিকো চিয়েজা প্রত্যেকেই এক করে গোল করেছেন। এই জয় লিভারপুলকে আট ম্যাচে ছয় জয়, দুই ড্র এবং ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে স্থাপন করেছে।
বার্সেলোনা নিজস্ব ঘরে কোপেনহেগেনের মুখোমুখি হয়ে ৪-০ পরাজয় স্বীকার করেছে। রবার্ট লেভানডোস্কি, লামিন ইয়ামাল, রাফিনহা এবং মার্কাস রাশফোর্ড প্রত্যেকেই এক করে গোল করে দলকে স্কোরে রাখার চেষ্টা করেছেন, তবে শেষ পর্যন্ত হারের মুখে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে। পাঁচ জয়ে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বার্সেলোনা টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে।
টটেনহ্যাম শেষ ম্যাচে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টকে ২-০ গোলে পরাজিত করে চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করেছে। যদিও দু’টি গোলের মাধ্যমে জয় অর্জন করতে পারলেও, টটেনহ্যামকে টেবিলের শীর্ষে পৌঁছাতে যথেষ্ট না হয়। এই ফলাফল টটেনহ্যামকে সরাসরি শেষ ষোলোতে স্থান দেয়।
চেলসি, স্পোর্টিং সিপি এবং ম্যানচেস্টার সিটি যথাক্রমে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম স্থানে বসে আছে। উভয় দলই গ্রুপ পর্যায়ে পর্যাপ্ত পয়েন্ট সংগ্রহ করে প্লে‑অফ রাউন্ডে না গিয়ে সরাসরি রাউন্ড‑অফে প্রবেশের অধিকার পেয়েছে। তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা এবং রক্ষণশীল কৌশল স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
গ্রুপ পর্যায়ে নয় থেকে চব্বিশতম স্থানে থাকা দলগুলোকে দুই লেগের প্লে‑অফ ম্যাচে মুখোমুখি হতে হবে। এই দলে রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, পিএসজি, নিউক্যাসল, ইয়ুভেন্তুস, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, আটালান্টা, লেভারকুসেন, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, অলিম্পিয়াকোস, ক্লাব ব্রুগ, গালাতাসারাই, মোনাকো, কারাবাগ, বোদো/গ্লিমট এবং বেনফিকা অন্তর্ভুক্ত।
প্লে‑অফের বিজয়ী আটটি দল শেষ ষোলোতে বাকি আটটি টিকিটের অধিকারী হবে। এই রাউন্ডে প্রতিটি জোড়া দল দুইবার মুখোমুখি হবে, একবার হোম এবং একবার অ্যাওয়ে ম্যাচে। ফলাফল নির্ভর করবে হোম গেমে অর্জিত গোলের পার্থক্য এবং অ্যাগ্রেগেট স্কোরের ওপর।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই পর্যায়ে দলগুলোর পারফরম্যান্সে স্পষ্টতই আক্রমণাত্মক শক্তি এবং রক্ষণশীল স্থিতিশীলতা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লিভারপুলের ছয় গোলের আক্রমণ এবং বার্সেলোনার প্রতিরক্ষা দুর্বলতা এই পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছে।
আগামী সপ্তাহে প্লে‑অফের সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি সহ অন্যান্য দলগুলোকে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। এই ম্যাচগুলোতে জয়ী দলগুলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে প্রবেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে প্রবেশের জন্য লিভারপুল, বার্সেলোনা, টটেনহ্যাম, চেলসি, স্পোর্টিং সিপি এবং ম্যানচেস্টার সিটি নিশ্চিত হয়েছে, আর বাকি আটটি টিকিট প্লে‑অফের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।



