23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআদানি গ্রুপের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ২০২৫‑এ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে

আদানি গ্রুপের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ২০২৫‑এ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে

আদানি গ্রুপের গুড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি গত বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর‑ডিসেম্বর) পূর্ব বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তিন মাসে গ্রুপ মোট ২২৫ কোটি কিলোওয়াট‑ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালে আদানি গ্রুপের মোট সরবরাহ ৮৬৩ কোটি কিলোওয়াট‑ঘণ্টা রেকর্ড করেছে, যা বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৮.২ শতাংশ গঠন করে। পূর্ববর্তী বছর ২০২৪-এ ভারতের অংশ ১২ শতাংশ ছিল, আর ২০২৫-এ তা বেড়ে ১৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে আদানি গ্রুপ একাই দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় দশ শতাংশ পূরণ করেছে।

একই সময়ে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের হ্রাস এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার ফলে এলএনজি‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ সর্বনিম্ন ৪২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে গত দশকে এই অংশ প্রায় দুই‑তৃতীয়াংশ ছিল। গ্যাসের ঘাটতি পূরণে সরকার এখন কয়লা‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের মতে, ২০২৬ সালে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরকার এই বছর কয়লা আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ২০২৫ সালে কয়লা আমদানি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১.৭৩ কোটি মেট্রিক টন পৌঁছেছে।

আদানি গ্রুপ ২০২৩ সালের শুরুতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। যদিও দুই দেশের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তবুও বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। একটি জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিতে ‘অস্বাভাবিক অসংগতি’ ও দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বলে উল্লেখ করেছে, তবু গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বিদ্যুৎ অপরিহার্য বলে গণ্য করা হচ্ছে।

শক্তি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্যাসের ঘাটতি বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল তেল‑ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে বাধ্য করছে, আর আদানি গ্রুপের কয়লা‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। গ্যাসের সংকট ও বাড়তে থাকা চাহিদা বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে কয়লা‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম ও পরিবেশগত নীতি পরিবর্তন ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments