মেটা ২০২৪ আর্থিক ফলাফল আলোচনা করতে আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কলের সময় জানিয়েছে যে, এই বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রকল্পে ব্যয় প্রায় $135 বিলিয়ন (প্রায় £97 বিলিয়ন) পর্যন্ত বাড়বে। এটি গত বছরের $72 বিলিয়ন ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ, ফলে AI-তে বিনিয়োগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
কোম্পানি উল্লেখ করেছে যে, AI-সম্পর্কিত অবকাঠামোতে এই ব্যয় অধিকাংশই যাবে, যা মেশিন লার্নিং সেন্টার, ডেটা সঞ্চয় এবং ক্লাউড পরিষেবার সম্প্রসারণকে অন্তর্ভুক্ত করে। গত বছর মোট AI ব্যয় $72 বিলিয়ন ছিল, আর পূর্বের তিন বছরে মোট প্রায় $140 বিলিয়ন AI-তে খরচ করা হয়েছে, যা শিল্পের বুমের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষণ।
মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গ বুধবার বলেছিলেন, ২০২৬ বছরটি AI কীভাবে কাজের পদ্ধতি পরিবর্তন করবে তা স্পষ্টভাবে দেখাবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মস্থলের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এই মন্তব্যের সঙ্গে কোম্পানির AI-তে বৃহৎ ব্যয় পরিকল্পনা যুক্ত হয়েছে।
আর্থিক দিক থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে ব্যয় রাজস্বের তুলনায় দ্রুত বাড়ার ফলে মুনাফার মার্জিন সংকুচিত হয়েছে। ব্যয়ের বৃদ্ধির গতি রাজস্ব বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় মেটার লাভের হার হ্রাস পেয়েছে, যদিও মোট আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলেও, কোম্পানি ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির জন্য AI-তে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া তীব্র ছিল; নিউ ইয়র্কের এক্সটেন্ডেড ট্রেডিং সেশনে মেটার শেয়ার প্রায় ৬.৫% বাড়ে। বিনিয়োগকারীরা AI-তে বৃহৎ ব্যয়কে দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে শেয়ার মূল্যের এই বৃদ্ধি সাময়িক হতে পারে, কারণ ব্যয়ের চাপ এবং মুনাফা হ্রাসের উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে।
জুকারবার্গের মন্তব্যে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বড় দল দিয়ে করা প্রকল্প এখন একক, দক্ষ কর্মী দ্বারা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, “বড় দল দিয়ে করা কাজ এখন একক প্রতিভা দিয়ে করা যায়,” যা কর্মশক্তি গঠন ও নিয়োগ নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এই বিবৃতি ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বছরের শুরুর দিকে মেটা ইতিমধ্যে তার রিয়ালিটি ল্যাবস বিভাগে কয়েকশো কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। রিয়ালিটি ল্যাবস মেটার মেটাভার্স, হার্ডওয়্যার পণ্য এবং AI উদ্যোগের জন্য দায়ী, এবং এই বিভাগে ছাঁটাই কোম্পানির কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছাঁটাইয়ের পরেও AI গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা বজায় রয়েছে।
মেটা সব বিভাগে AI টুলের ব্যবহার বাড়িয়ে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে চায়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য পেশাজীবীরা AI সহায়তায় কাজের গতি বাড়াতে পারবে, যা কোম্পানির সামগ্রিক কার্যক্ষমতা উন্নত করবে। জুকারবার্গ উল্লেখ করেছেন, এই টুলগুলো ব্যবহারকারী কর্মীরা “গুরুতরভাবে বেশি উৎপাদনশীল” হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেছিলেন, “যারা এই টুলগুলো দক্ষভাবে ব্যবহার করে এবং যারা করে না, তাদের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকবে।” এই পার্থক্যকে তিনি “বড় ডেল্টা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা কর্মশক্তির দক্ষতা ও ফলাফলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। ফলে কোম্পানি কর্মীদের মধ্যে AI টুলের প্রশিক্ষণ ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উদ্যোগ নেবে।
জুকারবার্গের আরেকটি মন্তব্যে তিনি স্বীকার করেছেন যে, সংস্থার কাজের পদ্ধতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, “এজেন্টরা এখন সত্যিই কাজ শুরু করেছে, যা যথেষ্ট গভীর প্রভাব ফেলবে,” এবং এই পরিবর্তন কর্মস্থলের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিল্পের অন্যান্য নির্বাহীরা AI বুদবুদ নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করলেও, মেটা এই ঝুঁকি সত্ত্বেও AI-তে বৃহৎ বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে। কোম্পানি AI প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে চায়। এই কৌশল মেটাকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি প্রবণতার শীর্ষে রাখতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, মেটা ২০২৪ সালে AI-তে ব্যয় দ্বিগুণ করে $135 বিলিয়ন পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা শিল্পের বুমের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার ধারাকে জোরদার করে। যদিও ব্যয় বৃদ্ধি মুনাফার মার্জিনকে চাপিয়ে দেয়, শেয়ার মূল্যের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং AI টুলের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্য কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে। ভবিষ্যতে AI কীভাবে কাজের পদ্ধতি বদলাবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে মেটার এই কৌশল শিল্পের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



