মেটা (Meta) গত মাসে রিয়েলিটি ল্যাবস, তার ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভাগে ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে প্রায় এক হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেয়। এই পদক্ষেপটি কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনকে ঘিরে আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে।
মেটা ২০২৫ সালে রিয়েলিটি ল্যাবস থেকে প্রায় ১৯১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি রিপোর্ট করেছে, যা গত বছরের ১৭৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য বেশি। এই ক্ষতি কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে বিভাগটি ৬.২ বিলিয়ন ডলারের নিট ক্ষতি দেখিয়েছে, যখন একই সময়ে বিক্রয় মাত্র ৯৫৫ মিলিয়ন ডলার রেকর্ড করেছে। পুরো ২০২৫ সালে মোট বিক্রয় প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা ক্ষতির তুলনায় খুবই কম।
বিক্রয় কলের সময় মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গ রিয়েলিটি ল্যাবসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী সুরে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে কোম্পানি এখন গ্লাস এবং ওয়্যারেবল ডিভাইসের দিকে অধিক বিনিয়োগ করবে, পাশাপাশি হরাইজন মোবাইল সংস্করণকে সফল করতে এবং ভিআরকে লাভজনক ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত করতে মনোযোগ দেবে।
তবে জুকারবার্গ স্বীকার করেছেন যে ২০২৬ সালের ক্ষতি ২০২৫ সালের সমান হবে এবং এই বছরকে “শীর্ষ” হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তিনি বলছেন, পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ক্ষতি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে না।
মেটা ২০২১ সালে মেটাভার্সের দিকে ঝুঁকির সংকেত দিয়েছিল, যা বাজারে ব্যাপক সন্দেহের মুখে পড়ে। প্রথম বছরেই ভিআর উদ্যোগকে আন্তর্জাতিকভাবে “হাসির বিষয়” বলে সমালোচনা করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর পরও এই সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি।
বর্তমানে ভিআর ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে ক্ষতি দেখাচ্ছে, আর মেটা এআই প্রযুক্তিতে তীব্রভাবে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ভিআর থেকে আয় বাড়ানোর কোন স্পষ্ট পথ দেখা না গেলেও, কোম্পানি নতুন কৌশল অনুসন্ধানে ব্যস্ত।
সিএনবিসি সূত্রে জানা যায়, কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি মেটা কিছু ভিআর প্রকল্প বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। এই পদক্ষেপগুলো কোম্পানির আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



