চেলসি নাপোলির মুখোমুখি হয়ে স্টেডিও ডিয়েগো আরমান্ডো মারাডোনায় ৩-২ স্কোরে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে ২০২২ সালের পর প্রথম দূরবর্তী জয় নিশ্চিত করেছে। লিয়াম রোজেনিয়র দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সংকট মোকাবেলা করার ক্ষমতা প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন, এই জয় দলকে সরাসরি শেষ ১৬তে নিয়ে যাবে।
প্রথমার্ধে চেলসি ১-০ এগিয়ে থাকলেও নাপোলি দ্রুত দুই গোলের মাধ্যমে ২-১ করে এগিয়ে আসে। হাফটাইমে কোলে পার্মার পরিবর্তে আসার পর দলটি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং পরের ৪৫ মিনিটে সমতা রক্ষা করে।
চেলসির শুরুর গোলটি এনজো ফার্নান্দেজের পেনাল্টি থেকে আসে, যা ম্যাচের প্রাথমিক প্রবাহকে চেলসির পক্ষে ঘুরিয়ে দেয়। তবে নাপোলি দ্রুতই সমতা ভাঙে এবং প্রথমার্ধের শেষের দিকে অতিরিক্ত একটি গোলের মাধ্যমে সুবিধা নেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে জোয়াও পেদ্রোর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গোল চেলসির পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথম গোলটি নাপোলির রক্ষণকে ভেঙে দেয়, আর দ্বিতীয়টি দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পার্মার পরিবর্তে মাঠে নামার পর তার সক্রিয় প্রেসিং ও দৌড়ের মাধ্যমে দলের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে।
রোজেনিয়র বললেন, “এটাই অভিজ্ঞতার ফল। এমন রাতগুলোতে দলকে বাধা অতিক্রম করতে হয় এবং আমরা তা সফলভাবে করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “দূরবর্তী জয়ে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সময়ের পর ফিরে আসা আমাদের জন্য একটি বড় সূচক।” এই মন্তব্যগুলো দলকে ভবিষ্যতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করবে।
চেলসির দীর্ঘদিনের পর দূরবর্তী জয় অর্জন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রোজেনিয়র উল্লেখ করেন, “এটি আমাদের জন্য একটি চমৎকার চিহ্ন, এবং আমরা আশা করি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।” এই জয় দলকে পরবর্তী দুই-লেগের প্লে-অফের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে, ফলে সরাসরি নকআউট রাউন্ডে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
কোলে পার্মার সিজনে বেশ কিছু আঘাতের কারণে সীমিত সময়ই খেলতে পেরেছেন, তবে এই ম্যাচে তিনি অর্ধেকের পরই মাঠে নামার পর দ্রুত প্রভাব ফেলেছেন। রোজেনিয়র বললেন, “পার্মার শুরুতে ৬০-৮০ মিনিট খেলা সম্ভব ছিল না, তবে তার পরিবর্তন আমাদের জন্য গেম-চেঞ্জার প্রমাণিত হয়েছে।” তার পারফরম্যান্সে শুধু গুণগত দিক নয়, দলের জন্য প্রয়োজনীয় চাপ এবং দৌড়ের মানও দেখা গেছে।
চেলসির এই দলটি প্রতিযোগিতার মধ্যে সবচেয়ে তরুণ দল হিসেবে পরিচিত, এবং তাদের এই দৃঢ়তা ও মানসিকতা নাপোলির মতো অভিজ্ঞ দলের মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রোজেনিয়র উল্লেখ করেন, “যুবক খেলোয়াড়দের এই রকম সংকট মোকাবেলা করার ক্ষমতা আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।” এই মন্তব্যগুলো দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
নাপোলি, অ্যান্টোনিও কন্টের তত্ত্বাবধানে, এই পরাজয়ের ফলে শীঘ্রই চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বেরিয়ে যাবে। রোজেনিয়র বললেন, “নাপোলি কঠিন সময়ের মুখোমুখি, তবে আমাদের তরুণরা তাদের প্রত্যাশা অতিক্রম করেছে।” এই জয় নাপোলির জন্য অপ্রত্যাশিত প্রস্থানকে চিহ্নিত করে।
চেলসির এই জয় তাদেরকে সরাসরি নকআউট রাউন্ডে প্রবেশের সুযোগ দেয়, ফলে পরের মাসে দুই-লেগের প্লে-অফের ঝামেলা এড়াতে পারে। রোজেনিয়র জোর দিয়ে বলেন, “এই জয় আমাদেরকে পরবর্তী পর্যায়ে সরাসরি নিয়ে যাবে, যা দলের জন্য বড় সাফল্য।” দলটি এখন পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
সারসংক্ষেপে, চেলসির তরুণ দল নাপোলির বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩-২ স্কোরে জয়লাভ করে দীর্ঘদিনের পর প্রথম দূরবর্তী জয় অর্জন করেছে। রোজেনিয়রের প্রশংসা, পার্মার উজ্জ্বল পারফরম্যান্স এবং জোয়াও পেদ্রোর দু’টি গোল এই জয়ের মূল উপাদান ছিল। দলটি এখন সরাসরি নকআউট রাউন্ডে প্রবেশের পথে, ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



