23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককোলম্বিয়ার উত্তরে বিমান ধসে ১৫ জনের মৃত্যু

কোলম্বিয়ার উত্তরে বিমান ধসে ১৫ জনের মৃত্যু

উত্তর কোলম্বিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বিমান ধসে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন সাটেনার দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার দুপুর ১২:০৫ (স্থানীয় সময়) এর কাছাকাছি, যখন বিমানটি ওকানা শহরে অবতরণের পথে ছিল। সকল যাত্রী ও ক্রু সদস্যই নিহত হয়েছে।

বিমানটি ছিল বীচক্রাফ্ট ১৯০০ মডেল, যা সাটেনার NSE 8849 ফ্লাইট নাম্বার দিয়ে কুকুটা শহর থেকে প্রস্থান করেছিল। কুকুটা ওকানা শহরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত, এবং উড়ানটি প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। অবতরণে ১১ মিনিট বাকি থাকাকালীন বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান অভিযান চালু করা হয়।

যানবাহনের যাত্রী তালিকায় কোলম্বিয়ার সংসদ সদস্য ডায়োজেনেস কুইন্টারো আমায়া এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কার্লোস স্যালসেডো অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উভয়ই রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব, যার মৃত্যুর খবর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে শোকের ছায়া ফেলেছে।

বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পরবর্তীতে পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যায়, যেখানে কঠিন ভূপ্রকৃতি অনুসন্ধানকে জটিল করে তুলেছে। সাটেনা জরুরি হটলাইন চালু করে পরিবারগুলোর জন্য তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে, এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার দল পাঠায়।

কোলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীও অনুসন্ধান কাজে সহায়তা করছে, যদিও দুর্ঘটনার স্থানটি এলএন (ELN) গেরিলা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই পরিস্থিতি অনুসন্ধানকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে সামরিক ও গেরিলা উভয়ের সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘটনাটি দ্রুত নজরে আসে। ভেনেজুয়েলা ও পেরুর দূতাবাস উভয়ই কোলম্বিয়ার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে এবং তদন্তে পূর্ণ স্বচ্ছতার আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ও কোলম্বিয়ার বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “কোলম্বিয়ার উত্তরের গেরিলা-নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের সংযোগ একটি সংবেদনশীল বিষয়, যা ভবিষ্যতে বিমান রুট পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিমান দুর্ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব কোলম্বিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে দেওয়া হয়েছে, এবং তারা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে পারে বলে জানায়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে মেকানিক্যাল ত্রুটি, আবহাওয়া বা মানবিক ভুলের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।

বর্তমানে মৃতদেহ পুনরুদ্ধার ও পরিবারকে সমর্থন দেওয়ার কাজ চলছে, এবং সরকার দ্রুত একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলোতে নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্মূল্যায়ন এবং গেরিলা-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিমান চলাচল সংক্রান্ত নীতি পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments