প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সে শীতল রাতের তাপমাত্রা সত্ত্বেও, নিউক্যাসল এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ১-১ সমতা বজায় রেখে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায় শেষ করেছে। দুই দলের এক‑একটি গোলের ফলাফল উভয়কে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া নকআউট রাউন্ডে স্থান নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি ৯০ মিনিটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সমাপ্তি পায়, যেখানে উভয় দলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়।
পার্ক দে প্রিন্সের গর্জনপূর্ণ পরিবেশে, ভক্তদের চিৎকার ও সঙ্গীতের মিশ্রণ গেমের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল। শীতল হাওয়া এবং জানালার বাইরে ধূসর জানুয়ারি আলো এই ঐতিহাসিক রাতকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছিল। স্টেডিয়ামের ভিড়ের সাড়া এবং দলগুলোর তীব্র চাপের মিশ্রণ ম্যাচের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিউক্যাসলের কোচ ইডি হোউ পূর্বের অ্যাস্টন ভিলা বিপক্ষে হারের পর পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে ব্যাকলাইনকে ত্রিকোণীয় রূপে গড়ে তোলেন। এই পরিবর্তনের ফলে ড্যান বার্ন প্রথমবারের মতো এই মাসে স্টার্টিং ইলেকশনে অন্তর্ভুক্ত হন, এবং দলটি অধিক সংহত রক্ষণাত্মক কাঠামো পায়। মিডফিল্ডে জো উইলককে নতুন দায়িত্বে রাখা হয়, যা তাকে ইউরোপের শীর্ষ দলে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেয়।
প্রথমার্ধে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন দ্রুত আক্রমণ চালায়, তবে নিউক্যাসলের সঙ্কুচিত রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা তাদের আক্রমণকে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়। মাঝখানে দু’দলই কয়েকটি তীক্ষ্ণ শট নেয়, তবে গোলরক্ষকদের চমৎকার প্রতিক্রিয়া ফলস্বরূপ স্কোরবোর্ডে কোনো পরিবর্তন না আসে। প্রথমার্ধের শেষের দিকে প্যারিসের এক খেলোয়াড়ের হেডার গোল হয়ে দলকে এক গোলের সুবিধা দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল দ্রুতই সমতা বজায় রাখার চেষ্টা করে, জো উইলকের মাঝখানে চালনা এবং ড্যান বার্নের ডিফেন্সিভ ওভারল্যাপ দু’দলই আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে। মাঝখানে নিউক্যাসল একটি কোণার কিক থেকে হেডার মারার পর গোলের সুযোগ পায়, তবে গোলরক্ষকের চমৎকার সেভে তা রোধ হয়। শেষের দিকে নিউক্যাসল একটি পেনাল্টি সুযোগ পায়, তবে তা মিস করে, ফলে স্কোর ১-১ই থাকে।
ইডি হোউ ম্যাচের পর মিডিয়ায় বলেছিলেন, দলটি দুর্বল শারীরিক অবস্থায়ও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখেছে এবং রক্ষণাত্মক পরিবর্তনগুলো কার্যকর হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি দ্বিতীয়ার্ধে আরও শটের সুযোগ পেতেন, তবে জয় নিশ্চিত হতো। কোচের এই মন্তব্য দলীয় মনোবলকে উঁচুতে তুলতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন।
ফলস্বরূপ, নিউক্যাসল এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন উভয়ই গ্রুপের শীর্ষে পৌঁছে নকআউট রাউন্ডে অগ্রসর হয়েছে। নিউক্যাসলের জন্য এই ফলাফল গ্রুপে স্থিতিশীলতা আনে, আর প্যারিসের জন্য এটি শেষ মুহূর্তের স্কোর পরিবর্তনের মাধ্যমে প্লে‑অফে প্রবেশের নিশ্চিত করে। উভয় দলই এখন শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে এমন পরবর্তী রাউন্ডের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করবে।
নিউক্যাসল পরের সপ্তাহে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে চায়। প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনও ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নকআউট রাউন্ডের প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। উভয় দলের ভক্তরা এখন এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দলকে সমর্থন করার জন্য উদগ্রীব।



