বাল্টিমোরের এক পুরনো হত্যাকাণ্ডে শাস্তি পেয়েছিল তিন যুবক, যাদের নাম পরে ‘হার্লেম পার্ক থ্রি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৮৩ সালের নভেম্বর মাসে এক নবম শ্রেণীর ছাত্রের জ্যাকেট নিয়ে সংঘটিত গুলিতে তিনজন কিশোরকে অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ৩৬ বছর পর, ২০১৯ সালের জুনে বাল্টিমোরের কনভিকশন ইন্টেগ্রিটি ইউনিট দেরি করে জমা দেওয়া নতুন প্রমাণ পায়, যা পুরো মামলাকে উল্টে দেয়।
এই নতুন প্রমাণগুলো ছিল এমন এক্সক্লুপেটরি ডকুমেন্ট, যা মূলত সাক্ষীর স্বীকারোক্তি ও পুলিশি রেকর্ডে গোপন রাখা হয়েছিল। ইউনিটের পরিচালক এই তথ্যকে অগ্রাধিকার দেন এবং দ্রুত তদন্ত চালু করেন। ফলস্বরূপ, তিনজনকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির আগে সম্পন্ন হয়।
মুক্তি পাওয়া তিনজনই র্যামসন ওয়াটকিন্স, অ্যান্ড্রু স্টুয়ার্ট এবং আলফ্রেড চেস্টনাট, যারা কিশোর বয়সে আজীবন কারাদণ্ডে বসে ছিলেন। তাদের মুক্তি বাল্টিমোরের ইতিহাসে এক বিরল উদাহরণ, যেখানে দীর্ঘ সময়ের ভুল শাস্তি শেষমেশ সংশোধিত হয়।
ডকুমেন্টারির পরিচালক ডন পোর্টার এই ঘটনাকে কেন্দ্রীয় বিষয় করে এক চলচ্চিত্র তৈরি করেন, যা সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম প্রদর্শিত হয়। চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় এক ঘণ্টা বত্রিশ মিনিট, এবং এটি মূলত নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনের একটি নিবন্ধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
ফিল্মে নতুন সাক্ষাৎকার, আদালতের ডিপোজিশন ভিডিও এবং টিভি সংবাদ ক্লিপ একত্রিত করে ঘটনাটির বহুমুখী দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা হয়েছে। এতে শিকারের পরিবার, মুক্তিপ্রাপ্তদের আত্মীয়স্বজন এবং মামলায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তির কথাও অন্তর্ভুক্ত।
প্রধান চরিত্র হিসেবে র্যামসন, অ্যান্ড্রু এবং আলফ্রেডের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের হৃদয়বিন্দু। তারা কীভাবে দীর্ঘ সময়ের কারাবাসে মানসিক ও শারীরিক কষ্ট ভোগ করেছে, এবং মুক্তির পর সমাজে পুনরায় সংহতি গড়তে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তা বিশদভাবে দেখানো হয়েছে।
একজন প্রতিবেশী রন বিশপ, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভুল সাক্ষ্য দিয়ে আদালতে ভূমিকা রেখেছিলেন, তার গল্পও চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। তিনি বলেছিলেন যে পুলিশী চাপে তিনি মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তিনজনের দোষী সাব্যস্তের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার স্বীকারোক্তি চলচ্চিত্রের নৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও জোরালো করে।
চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ হিসেবে তা-নেহিসি কোয়াটসের মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত, যিনি তখন আট বছর বয়সী ছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকলেও সমাজের অযৌক্তিকতা সম্পর্কে গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেন। তার মন্তব্যগুলো চলচ্চিত্রকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে এবং বর্তমান সময়ের ন্যায়বিচার প্রশ্নকে উত্থাপন করে।
‘When a Witness Recants’ কেবল একটি অপরাধমূলক মামলার পুনরাবিষ্কার নয়, বরং একটি সমাজের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি, পুলিশি দুর্নীতি এবং সাক্ষীর সুরক্ষার ঘাটতি তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটি দেখায় কীভাবে একক সাক্ষীর পরিবর্তন পুরো মামলাকে বদলে দিতে পারে এবং কতটা ক্ষতি তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন।
চলচ্চিত্রের শেষ অংশে মুক্তিপ্রাপ্তদের জীবনের বর্তমান অবস্থা, তাদের মানসিক আঘাত এবং সমাজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যদিও তারা শারীরিকভাবে মুক্ত, তবু তাদের মানসিক ক্ষত এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। চলচ্চিত্রটি এই দিকটি সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের হৃদয়কে স্পর্শ করে।
সারসংক্ষেপে, ডন পোর্টারের এই ডকুমেন্টারি একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা বহন করে। এটি দেখায় যে ভুল শাস্তি শুধুমাত্র অপরাধী নয়, পুরো সম্প্রদায়কে আঘাত করে এবং সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবার দায়িত্ব রয়েছে। চলচ্চিত্রটি বিনোদন বিভাগের পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত, যেখানে সত্যিকারের গল্পের মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দিকগুলো আলোকিত হয়।



