অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিকের সচিব সাধারণ অগনেস কলামার্ড ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের কাছে মানবাধিকার ও আইনের শাসন সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করার দাবি জানিয়ে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে সরকারকে জনসাধারণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে এবং নির্বাচনের সময় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে তৎপরতা দেখাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কলামার্ড উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে সাংবাদিকদের ওপর দমনমূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করছে।
এছাড়া, তিনি জীবনের অধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতাকে সমালোচনা করেছেন।
অধিকন্তু, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, আইন, নীতি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে এই মৌলিক অধিকারগুলো সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকে।
চিঠিতে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ঘটিত সহিংসতার প্রতি সরকারের অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই দিনই “দ্য ডেইলি স্টার” ও “প্রথম আলো”র কার্যালয় আগুনে পুড়ে যায়, যা মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের ওপর হিংসার নতুন মাত্রা প্রকাশ করে।
একই সময়ে, “নিউ এজ”ের সম্পাদক নুরুল কবিরকে হুমকি ও হয়রানির শিকার করা হয়, যা সাংবাদিক স্বাধীনতার উপর আঘাতের সূচক।
অন্যদিকে, হিন্দু নাগরিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে গোষ্ঠী গুলিয়ে হত্যা করে, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
কলামার্ডের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অস্থায়ী সরকারের মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন সপ্তাহগুলো সরকারকে এই দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম কিনা তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হবে।
শেষে, কলামার্ড জোর দিয়ে বলেছেন যে, নির্বাচনের সময় নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের মূল দায়িত্ব, যাতে সকল বাংলাদেশি নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশ নিতে পারে।



