২৮ জানুয়ারি বুধবার দুপুর প্রায় একটায়, মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের রাস্তা থেকে এক ইজিবাইক চালক তিন বছরের শিশুকে নিয়ে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটার মুহূর্তে শিশুর মা সুমাইয়া আক্তার হাসপাতালে টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন এবং শিশুটিকে রিকশায় রেখে ইজিবাইক ভাড়া নিয়েছিলেন।
সুমাইয়া আক্তার, যিনি মুগদার দক্ষিণগাঁও ৬ নম্বর রোডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন, তার স্বামী হারুন রহমান বিদেশে কাজ করছেন। মা তার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, প্রায় একটায় কাছাকাছি একটি ইজিবাইক ভাড়া নেন এবং শিশুকে রিকশায় রেখে সামনের দোকান থেকে এক বোতল পানি কেনার জন্য রিকশায় ওঠেন।
পানির বোতল কেনার পর রিকশা ফিরে আসার সময় তিনি লক্ষ্য করেন ইজিবাইকটি আর নেই। রিকশা চালকের সঙ্গে চেক করার পর জানেন যে চালকটি শিশুটিকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে গেছে। মা তৎক্ষণাৎ মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন এবং হারিয়ে যাওয়া শিশুর সন্ধানে তৎপর হন।
শিশুর মামা আজিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি এক মুহূর্তের মধ্যে ঘটেছে। তারা আশেপাশের গলি-গলিতে খোঁজ নেয়, তবে চালক দ্রুত গতি বাড়িয়ে চলে যাওয়ায় শিশুটিকে ধরতে পারেনি। মামা ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন দ্রুত পুলিশকে জানিয়ে দেন এবং অনুসন্ধানে সহযোগিতা করেন।
মুগদা থানার তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নিকটবর্তী ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ, ইজিবাইক চালকের পরিচয় যাচাই এবং রিকশা চালকের বিবৃতি নেয়া। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং এলাকায় সার্চ অপারেশন চালু রয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, শিশুর অপহরণ বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা আইন এবং দণ্ডবিধির অধীনে কঠোর শাস্তির আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ড, জরিমানা এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পুলিশ ইতিমধ্যে অপরাধীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অধিকন্তু, পুলিশ জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, রাইড-শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করার সময় শিশুকে একা না রেখে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। রিকশা বা ইজিবাইক চালকের সঙ্গে চুক্তি করার সময় পরিচয়পত্র এবং গাড়ির নম্বর যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার পর, মুগদা থানার উচ্চতর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তদন্ত চলমান এবং কোনো নতুন সূত্র পাওয়া মাত্রই তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। তারা সকলকে অনুরোধ করছেন, যদি কেউ সন্দেহজনক কোনো গতি-প্রকৃতি লক্ষ্য করেন বা চালকের কোনো তথ্য জানেন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে জানাতে।
শিশুর নিরাপদ ফিরে আসা এবং অপরাধীর দ্রুত গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একসাথে কাজ করছে। ঘটনাটির আপডেট এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই প্রকাশ করা হবে।



