অ্যান্টোয়ান ফুকা পরিচালিত ‘ট্রাবলমেকার’ ডকুমেন্টারি, নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মনাম রোলিহলাহলা (যার অর্থ ‘বিকটকারী’) থেকে অনুপ্রাণিত, ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের সময়সীমা নিয়ে সান্ড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ম্যান্ডেলার জীবনের মূল মুহূর্তগুলোকে চিত্রায়িত করতে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার এবং আধুনিক অ্যানিমেশনকে একত্রিত করেছে, যা দর্শকের জন্য ভিজ্যুয়াল দিক থেকে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তবে সীমিত সময়ের কারণে বিষয়বস্তুর গভীরতা সীমাবদ্ধ, ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সমসাময়িক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা তুচ্ছভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডকুমেন্টারির শিরোনাম ম্যান্ডেলার আদিবাসী নাম থেকে নেওয়া, যা তার বয়সকালে বন্ধুদের দ্বারা প্রায়ই ব্যবহার করা হত। এই নামের অর্থ ‘বিকটকারী’ হওয়ায়, চলচ্চিত্রটি তার রাজনৈতিক সংগ্রামের সূচনা এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে তার অটল অবস্থানকে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেছে। তবে ৯৪ মিনিটের সীমাবদ্ধতা চলচ্চিত্রকে দ্রুতগতিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা উপস্থাপন করতে বাধ্য করেছে, ফলে দর্শককে অতিরিক্ত তথ্যের জন্য গুগল অনুসন্ধান করতে হতে পারে।
চলচ্চিত্রের মূল কাঠামো ম্যান্ডেলার আত্মজীবনীতে অন্তর্ভুক্ত সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণকে সরাসরি তুলে ধরে। অ্যানিমেশন অংশগুলো ঐতিহাসিক দৃশ্যকে পুনর্গঠন করে, বিশেষ করে আপারথেইডের প্রাথমিক বছর এবং কারাবাসের সময়ের দৃশ্যগুলোকে রঙিনভাবে উপস্থাপন করেছে। এই ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো ডকুমেন্টারির বর্ণনাকে সমৃদ্ধ করেছে, যদিও বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণমূলক গভীরতা কমে গেছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘ট্রাবলমেকার’ ম্যান্ডেলার জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করে, যা নবীন দর্শক বা তার কাজের মৌলিক ধারণা পেতে ইচ্ছুকদের জন্য উপযোগী। তবে ডকুমেন্টারির সময়সীমা দীর্ঘায়িত হলে আপারথেইডের উত্স, ম্যান্ডেলার সমসাময়িকদের অবদান এবং তার আদর্শের জটিলতা আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতো। তুলনামূলকভাবে, জুড আপাটোয়ের মেল ব্রুক্সের চার ঘণ্টার ডকুমেন্টারি এবং মারিয়া বামফোর্ডের ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটের কাজের মতো দীর্ঘ ফরম্যাটে বিষয়বস্তুতে গভীরতা এবং সূক্ষ্মতা দেখা যায়।
ডকুমেন্টারির প্রকাশের সময়ে সান্ড্যান্স ফেস্টিভ্যালে উপস্থিতি চলচ্চিত্রের শিল্পমূল্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যদিও সমালোচকরা বিষয়বস্তুর ঘাটতি উল্লেখ করেছেন। চলচ্চিত্রের অ্যানিমেশন ব্যবহারকে বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছে, যা ঐতিহাসিক ঘটনার পুনর্নির্মাণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তবে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখা যায়, ডকুমেন্টারির গতি দ্রুত হওয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ব্যক্তিত্বের ভূমিকা সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রত্যাশা করা দর্শকদের জন্য কিছুটা অপর্যাপ্ত হতে পারে।
ডকুমেন্টারির সময়সীমা এবং বিষয়বস্তুর ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা চলতে থাকলেও, ‘ট্রাবলমেকার’ নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনের একটি প্রাথমিক জানালা হিসেবে কাজ করে। এটি দর্শকদেরকে ম্যান্ডেলার সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দেয়, এবং অ্যানিমেশন মাধ্যমে ঐতিহাসিক দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা করে। ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘায়িত ফরম্যাটে ম্যান্ডেলার রাজনৈতিক দর্শন, তার সমসাময়িকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আপারথেইডের সামাজিক প্রভাব বিশদভাবে উপস্থাপন করা হলে দর্শকরা সম্পূর্ণ চিত্র পেতে পারবে।
সর্বোপরি, ‘ট্রাবলমেকার’ সংক্ষিপ্ত সময়ে ম্যান্ডেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে সংকলিত করে, যা নবীন দর্শকদের জন্য উপযোগী এবং অ্যানিমেশন ব্যবহারকে প্রশংসনীয় বলে বিবেচিত। তবে গভীর বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের অভাবের কারণে এটি শুধুমাত্র প্রারম্ভিক স্তরের তথ্য সরবরাহ করে। ডকুমেন্টারির রিভিউ অনুযায়ী, এটি একটি সলিড প্রাইমার, তবে ম্যান্ডেলার জটিল জীবন ও আদর্শকে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে দীর্ঘতর ডকুমেন্টারির প্রয়োজন।
ডকুমেন্টারির প্রকাশের পর দর্শক ও সমালোচকদের মতামত মিশ্রিত, তবে অ্যানিমেশন এবং সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দুটোই প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতে ম্যান্ডেলার জীবনের আরও গভীর বিশ্লেষণমূলক কাজের জন্য এই ডকুমেন্টারিটি একটি সূচনা বিন্দু হতে পারে।



