গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শামছুল হকের বাসভবনে বুধবার রাত প্রায় ৯:৪৫ টায় ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনাস্থলে তীব্র শব্দের সাথে বিস্ফোরণ শোনা যায় এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশ সুপারইনস্পেক্টর মো. হাবিবুল্লাহ জানান, কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি হঠাৎ করে বিচারকের বাড়ির সামনে গিয়ে ককটেল ছুঁড়ে ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ককটেলটি বিস্ফোরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চস্বরে গর্জন শোনা যায় এবং আশেপাশের গৃহস্থালিতে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যায়।
বিস্ফোরণের পরপরই গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দ্রুত এলাকায় প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পুলিশ ও সেনা উভয়ই গৃহের চারপাশে গাড়ি ও পায়ে চলা রোডব্লক স্থাপন করে, যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালাতে না পারে।
অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গোপালগঞ্জের প্রধান রাস্তায় গাড়ি গার্ড এবং পায়ে চলা রোডব্লক স্থাপন করা হয়, পাশাপাশি নিকটবর্তী পুলিস স্টেশন থেকে অতিরিক্ত কর্মী পাঠানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী শিবির গঠন করা হয় এবং জরুরি সেবা সক্রিয় রাখা হয়।
গোপালগঞ্জ পুলিশ বিভাগ ঘটনাটির তদন্ত ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেয়। তদন্তে ফরেনসিক দল, সিআইডি ও স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয় থাকবে। ককটেল নিক্ষেপের সময় ক্যামেরা রেকর্ডিং, মোবাইল ফোনের জিপিএস ডেটা এবং গৃহের আশেপাশের সিভিলি সিকিউরিটি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ককটেল নিক্ষেপের সময় কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষ বা সরাসরি হুমকি জানানো হয়নি। তবে ককটেলটি উচ্চশক্তি সম্পন্ন বলে ধরা হচ্ছে এবং তা দ্রুত বিস্ফোরিত হওয়ায় আশেপাশের গৃহস্থালিতে ক্ষতি হতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, ককটেলটি হাতে তৈরি এবং তা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
বিচারক মোহাম্মদ শামছুল হক, যিনি গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন অভিজ্ঞ বিচারক, ঘটনায় কোনো শারীরিক ক্ষতি পাননি। তার বাসভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পূর্বে থেকেই শক্তিশালী ছিল, তবে এই ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, ককটেল নিক্ষেপের অপরাধটি বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ধারা ৩৪১(১) অনুযায়ী ‘সাবধানতা লঙ্ঘন’ এবং ‘সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য। সংশ্লিষ্ট অপরাধে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
তদন্তের অংশ হিসেবে, স্থানীয় বাসিন্দা ও গৃহমালিকদের কাছ থেকে বিবৃতি সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, ককটেল নিক্ষেপের সময় উপস্থিত গাড়ি ও পায়ে চলা রোডব্লকের ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। পুলিশ দল সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে ডিএনএ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষাও চালাবে।
অধিকন্তু, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও দায়রা জজ আদালতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে বিচারক ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাসভবনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা গার্ড, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
এই ঘটনার পর, গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী একত্রে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি, সন্দেহভাজনদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



