পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে জেলখানায় চোখের মারাত্মক রোগে ভুগছেন। তার রাজনৈতিক দল অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। চিকিৎসা বিলম্বিত হলে দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ডাক্তারদের মতে ইমরানের চোখের অবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন। রোগের অগ্রগতি থামাতে সময়মতো শল্যচিকিৎসা না করা হলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি ক্ষতি হতে পারে। তাই চিকিৎসা দল রোগের তীব্রতা তুলে ধরে জরুরি ব্যবস্থা চায়।
ইমরানের দলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোগের বর্তমান অবস্থা ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা জানানো হয়েছে। দল উল্লেখ করেছে যে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বার্তা জেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জেল কর্তৃপক্ষের মতে রোগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জেল প্রাঙ্গনে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে। তবে জেলের সীমিত অবকাঠামো ও সরঞ্জামের কারণে পূর্ণাঙ্গ শল্যচিকিৎসা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। তাই রোগীর জন্য বাহ্যিক চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইমরানের রোগের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি দরকার, যা জেলে উপলব্ধ নয়। জেলে এমন সুবিধা না থাকলে রোগীর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়বে। ফলে দ্রুত বাহ্যিক হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্থানান্তর করা একমাত্র সমাধান।
ইমরানকে ২০২৩ সালে আল-কাদির ট্রাস্টের দুর্নীতির অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়। সেই সময় থেকে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালে একবারের চিকিৎসা পর্যালোচনার পর আদালত তার ডাক্তার-সাক্ষাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে ইমরানকে আর কোনো চিকিৎসককে সরাসরি দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। তার দল এই সিদ্ধান্তকে রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে সমালোচনা করেছে। এখন দল জেল কর্তৃপক্ষ ও আদালতের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা অনুমোদনের চেষ্টা করছে।
দলীয় মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন যে রোগীর দৃষ্টিশক্তি রক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞের হস্তক্ষেপ জরুরি। সময়মতো সঠিক শল্যচিকিৎসা না হলে রোগীর জীবনের মান হ্রাস পাবে। তাই জেল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতি পার্টির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রধান নেতা না থাকলে পার্টির সংগঠন ও কৌশলগত পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্বের গঠন ও দলীয় কাঠামো পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইমরানের স্বাস্থ্য সমস্যার ফলে পার্টির আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি ও জনমত সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় মূল্যায়নের দিকে ধাবিত করতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জেলে রোগীর চিকিৎসা অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন। তারা জেল কর্তৃপক্ষকে রোগীর জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং মানবিক মানদণ্ড বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। এই দাবি আদালত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ভবিষ্যতে দল, জেল কর্তৃপক্ষ ও আদালত একত্রে সমন্বয় করে ইমরানের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শে দ্রুত বাহ্যিক হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্থানান্তর করা সম্ভব হলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা যাবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।



