প্রখ্যাত বলিউড অভিনেতা সিকন্দর খেরকে পশ্চিমবঙ্গের গভার্নর সি.ভি. আনন্দ বসের দ্বারা গভার্নরের এক্সেলেন্স পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কারটি রাজভবনের মহৎ ভোজঘরে অনুষ্ঠিত একটি সমারোহে প্রদান করা হয়। এই সম্মানটি তার চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
সমারোহে গভার্নর সি.ভি. আনন্দ বস উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সিকন্দরকে পুরস্কারপত্র ও সোনার পদক হাতে দিলেন। অনুষ্ঠানে শিল্প জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে পরিচালক, লেখক ও সহ-অভিনেতা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ভোজের পর একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিকন্দরের কিছু জনপ্রিয় ছবির দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করা হয়।
গভার্নরের এক্সেলেন্স পুরস্কারটি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও শিল্পের উন্নয়নে গভার্নরের অটল প্রতিশ্রুতির প্রতীক। এই পুরস্কারটি পূর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রদান করা হয়েছে, এবং এবার এটি চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য প্রদান করা প্রথম উদাহরণ। পুরস্কারটি শিল্পীর সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও সমাজে প্রভাবের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়।
পুরস্কার গ্রহণের সময় সিকন্দর খের তার অনুভূতি প্রকাশ করেন, “গভার্নরের এক্সেলেন্স পুরস্কার পাওয়া আমার জন্য এক অনন্য সম্মান। আমি গভার্নর সি.ভি. আনন্দ বসের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই, যাঁর এই স্বীকৃতি আমাকে নতুন গল্প অনুসন্ধান ও শিল্পে সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।” তার এই উক্তি সমারোহে উপস্থিত সকলকে অনুপ্রেরণা জোগায়।
তিনি আরও বলেন, “চলচ্চিত্র আমার জন্য শুধুই পেশা নয়, এটি এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে আমরা মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, অনুপ্রেরণা প্রদান এবং অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারি। এই পুরস্কারটি আমার সঙ্গে কাজ করা অসাধারণ দল, পরিচালক, লেখক ও সহ-অভিনেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।” তার কথায় শিল্পের সমষ্টিগত স্বভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সিকন্দর এই সম্মানটি তার পরিবার ও দর্শকদের উদ্দেশ্যেও উৎসর্গ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই সম্মানটি আমার পরিবার, যারা সবসময় আমার পাশে থেকেছেন, এবং আমাদের চলচ্চিত্রকে সমর্থন করা দর্শকদের প্রতি নিবেদিত। তাদের সমর্থনই আমাকে এই পথে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।” তার এই বক্তব্যে কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধের মিশ্রণ দেখা যায়।
গভার্নর সি.ভি. আনন্দ বসের ভাষণে উল্লেখ করা হয়, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকারী উদ্যোগের গুরুত্ব এবং সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেছিলেন, “এমন পুরস্কার দিয়ে আমরা শিল্পীদের উৎসাহিত করতে চাই, যাতে তারা নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করে এবং আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে।” এই মন্তব্যে সরকারী নীতি ও শিল্পের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সিকন্দর খেরের ক্যারিয়ার বলিউডের বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে তার বহুমুখিতা ও গভীরতা প্রদর্শন করেছে। তিনি রোমান্টিক কমেডি থেকে শুরু করে গম্ভীর নাট্যভিত্তিক চলচ্চিত্র পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমিকা পালন করেছেন, যা তাকে সমসাময়িক ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তার কাজের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের সঙ্গে সংবেদনশীল সংযোগ গড়ে তুলেছেন এবং শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন।
সমারোহের সমাপ্তিতে গভার্নর ও সিকন্দর দুজনেই ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল প্রকল্পে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই পুরস্কারটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিবেশে নতুন উদ্যমের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিকন্দর খেরের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও উচ্চমানের চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করবে, যা দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং শিল্পের মান উন্নত করবে।



