বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কবির খান এবং অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্টের মধ্যে দুইটি ফিচারের জন্য নতুন সহযোগিতা চূড়ান্ত হয়েছে। দু’পক্ষের চুক্তি অনুযায়ী, এই দুই প্রকল্পই একই সময়ে উৎপাদিত হবে এবং উভয়ই বড় পর্দা ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের লক্ষ্য রাখবে। এই সংবাদটি বিনোদন জগতের উন্মুক্ত আলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্টের নামটি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সফল সিরিজের সঙ্গে যুক্ত, যেমন “ব্ল্যাক ওয়ারেন্ট”, “স্ক্যাম”, “ক্রিমিনাল জাস্টিস”, “তনাব” এবং “উদেকি”। এই শোগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে এবং স্ট্রিমিং সেবার মানদণ্ডকে নতুন করে গড়ে তুলেছে। তাই এই সংস্থার সঙ্গে কবির খানের সহযোগিতা দু’পক্ষের জন্যই কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
চুক্তি অনুযায়ী, কবির খান দুইটি চলচ্চিত্রের মধ্যে একটির পরিচালক হিসেবে কাজ করবেন, আর উভয় প্রকল্পের সৃজনশীল দিকনির্দেশনা তিনি নিজেই তত্ত্বাবধান করবেন। অর্থাৎ, তিনি কেবল পরিচালনা নয়, পুরো গল্পের গঠন, শৈলী ও ভিজ্যুয়াল টোন নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবেন। এই দ্বৈত দায়িত্ব তাকে প্রকল্পের সৃজনশীল দিক থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেবে।
অ্যাপ্লজের জন্য এই পদক্ষেপটি তাদের উৎপাদন পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যময় করার একটি বড় সুযোগ, আর কবির খানের জন্য এটি তার চলচ্চিত্রিক দিগন্তকে আরও বিস্তৃত করার একটি নতুন মঞ্চ। দু’পক্ষই এই সহযোগিতাকে তাদের নিজ নিজ ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতে এই দুই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন গল্পের ধারা ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দর্শকের সামনে উপস্থাপন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সময়ে, কবির খান উত্তর প্রদেশের মহা কুম্ভ মেলায় উপস্থিত ছিলেন। মেলার বিশাল ভিড়ের মাঝে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান বলে প্রকাশ করেছেন এবং পবিত্র স্নানের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তার উপস্থিতি এবং মন্তব্যগুলো মেলার আধ্যাত্মিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
মেলায় তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় পরিচয়কে অতিক্রম করে এই সমাবেশটি আমাদের মূল, আমাদের দেশ এবং আমাদের সভ্যতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, হিন্দু বা মুসলিমের পার্থক্য এখানে প্রাসঙ্গিক নয়; যদি কেউ নিজেকে ভারতীয় বলে গর্ব করে, তবে তাকে এই ঐক্যের অনুভূতি ভাগ করে নিতে হবে। এই মন্তব্যগুলো সামাজিক সংহতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে।
কবির খানের চলচ্চিত্রিক যাত্রা বহু সফল কাজের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। “বাজরঙ্গী ভাইজন”, “৮৩” এবং “এক ছিল টায়গার” মতো ছবিগুলোতে তিনি গল্প বলার দক্ষতা ও ভিজ্যুয়াল শৈলীর সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন। তার কাজগুলো প্রায়শই বৃহৎ স্কেল, উচ্চ বাজেট এবং সামাজিক বার্তা সমৃদ্ধ হয়ে থাকে।
সম্প্রতি তিনি “চাঁদু চ্যাম্পিয়ন” শিরোনামের ছবিতে পরিচালনা দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে কার্তিক আরিয়ান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চলচ্চিত্রটি গত বছর জুন মাসে বড় স্ক্রিনে প্রকাশিত হয় এবং সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। সমালোচকরা বিশেষ করে ছবির গল্পের গঠন ও অভিনয়ের মানকে প্রশংসা করেছেন।
“চাঁদু চ্যাম্পিয়ন” এর সাফল্য কবির খানের সৃজনশীল শক্তি ও বাজারের প্রবণতা বুঝে কাজ করার ক্ষমতাকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ছবির বক্স অফিস ফলাফলও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল, যা তার পরবর্তী প্রকল্পের জন্য আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই সাফল্যকে পটভূমি করে, নতুন দুই চলচ্চিত্রের জন্য দর্শকরা উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে।
অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কবির খান নতুন গল্পের অনুসন্ধান এবং ভিজ্যুয়াল উদ্ভাবনের নতুন দিগন্তে পা রাখছেন। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে যে এই প্রকল্পগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে এবং দর্শকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। ভবিষ্যতে এই দুই চলচ্চিত্রের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আরও বিশদ তথ্য প্রকাশিত হবে, যা বিনোদন জগতের উত্সাহীদের জন্য নতুন আলো ছড়াবে।



