বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বুধবার এশিয়া ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) নারী এশিয়ান কাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এমন একটি ২৯ সদস্যের আংশিক প্রিলিমিনারি স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। এতে সুইডেনের জন্মগ্রহণকারী ফরোয়ার্ড অ্যানিকা রানিয়া সিদ্দিকি নামেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০ বছর বয়সী অ্যানিকা গত সপ্তাহ থেকে ঢাকায় ট্রায়াল চালিয়ে আসছেন এবং এখন পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স প্রশিক্ষক ও কোচদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অ্যানিকা স্কোয়াডে যোগদান করে বিদেশে ভিত্তিক দ্বিতীয় খেলোয়াড়ের মর্যাদা অর্জন করেছেন। পূর্বে মাতসুশিমা সুমায়া, যিনি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম SAFF নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছিলেন, তিনি একমাত্র বিদেশি ক্লাবের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অ্যানিকার অন্তর্ভুক্তি দলকে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্য যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্কোয়াডটি এখনই ১২ দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করছে। ফিটনেস ট্রেনার ক্যামেরন লর্ড এবং সহকারী আবুল হোসেন শারীরিক প্রস্তুতি, গতি ও সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সময়ে প্রধান কোচ পিটার বাটলার নেপালে জুনিয়র দলকে নিয়ে SAFF U‑19 নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ফলে তিনি সরাসরি এই শিবিরে উপস্থিত নন। প্রশিক্ষণ শিবিরে দলটি ট্যাকটিক্যাল ড্রিল, সেট-পিস অনুশীলন এবং ম্যাচ সিমুলেশন সহ বিভিন্ন দিক থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রধান কোচ বাটলার দেশীয় ক্লাব থেকে ২৩ জন খেলোয়াড়কে মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে মমনি চকমা, জয়নব বিবি রিতা এবং মুংকি আক্তারকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা বর্তমানে U‑19 দলের সঙ্গে যুক্ত। এই তিনজনের অনুপস্থিতি দলীয় গঠনকে কিছুটা পরিবর্তন করেছে, তবে কোচের মতে তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
মূল ২৩ জনের পাশাপাশি আরও নয়জন খেলোয়াড়কে প্রিলিমিনারি ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। তান্নিমা বিশ্বাস, রুমা আক্তার, উম্মা কুলসুম, ফেরদৌস আক্তার সোনালী, আইরিন খাতুন, সুরমা জান্নাত, নাদিয়া আক্তার জুটি, উননতি খাতুন এবং অ্যানিকা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এই খেলোয়াড়রা বিভিন্ন ক্লাব থেকে আসা এবং তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব শক্তি রয়েছে, যা প্রশিক্ষণ শিবিরে দলের বিকল্পগুলোকে সমৃদ্ধ করবে।
অ্যানিকা পূর্বে সুইডেনের শীর্ষ ক্লাব IF Brommapojkarna-তে খেলেছেন। তার খেলা দুই পাশের উইং-এ সমানভাবে কার্যকর, যেখানে তিনি পাসের সৃষ্টিকর্তা এবং গোলের হুমকি উভয়ই হতে সক্ষম। তার গতি, ড্রিবলিং এবং শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে মূল্যবান করে তুলেছে। প্রশিক্ষণ শিবিরে তার উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণস্বরূপ এবং আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেবে।
প্রশিক্ষণ শিবিরটি নারী ফুটবল লীগ ৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় শুরু হওয়ার আগে শেষ হবে। একই সঙ্গে SAFF U‑19 নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, যেখানে শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হবে। স্কোয়াডের প্রস্তুতি, বিদেশি ভিত্তিক খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রশিক্ষণ শিবিরের ফলাফল শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের জন্য বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



