ব্রেন্টফোর্ডের জিটেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপের প্রথম সেমি‑ফাইনালে কোরিন্থিয়ান্স ১-০ স্কোরে গথাম এফসিকে পরাজিত করে ফাইনালের পথে অগ্রসর হয়েছে। ম্যাচটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দলই শিরোপা জয়ের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। গথাম, যা NWSL চ্যাম্পিয়ন, এবং কোরিন্থিয়ান্স, যা কোপা লিবার্টাডোরসের শিরোপা ধারক, উভয়ই আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত দল। ৪০ বছর বয়সী কোরিন্থিয়ান্সের ক্যাপ্টেন গাবি জ্যানোটি ৮৩য় মিনিটে গেম-চেঞ্জিং গোল করে দলকে জয় এনে দেয়। এই ফলাফল প্রথম সেমি‑ফাইনালে উভয় লিগের (WSL ও NWSL) গর্বের লড়াইকে নতুন মোড় দেয়।
প্রারম্ভিক ৩০ মিনিটে গথাম মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে এবং বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করে, তবে কোরিন্থিয়ান্সের রক্ষণাবেক্ষণ দৃঢ় ছিল। গথামের মিডফিল্ডাররা বলের দখল বজায় রাখতে সক্ষম হয় এবং দু’বার শট নেয়, তবে গোলপোস্টের দিকে গিয়ে থেমে যায়। কোরিন্থিয়ান্সের প্রতিপক্ষের আক্রমণকে বাধা দিতে মাঝখানে উচ্চ চাপ প্রয়োগ করে এবং মাঝখানে বল পুনরুদ্ধার করে দ্রুত কনট্রা আক্রমণ চালায়। উভয় দলে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও গলকিপারদের চমৎকার সেভের কারণে স্কোর লক থাকে। প্রথমার্ধের শেষের দিকে গথাম কিছুটা বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, তবে কোরিন্থিয়ান্সের রক্ষণাবেক্ষণ এখনও অটুট থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে গথাম আবার আক্রমণ চালিয়ে যায়, তবে কোরিন্থিয়ান্সের ডিফেন্স লাইন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। ৮৩য় মিনিটে গাবি জ্যানোটি ডান ফ্ল্যাঙ্ক থেকে পাস গ্রহণ করে এবং একা ড্রিবল করে পেনাল্টি এরিয়া প্রবেশ করে। তার শট সোজা নেটের নিচের কোণে গিয়ে গথামের একক গলকিপারকে অতিক্রম করে, ফলে স্কোরবোর্ডে ১-০ হয়ে যায়। এই গোলটি ম্যাচের শেষের দিকে ঘটায়, ফলে গথামের সময়সীমা কমে যায় এবং তারা সমান করার সুযোগ পায় না। জ্যানোটি এই মুহূর্তে ৪০ বছর বয়সের ক্যাপ্টেন হিসেবে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়ে দলকে জয় এনে দেয়।
কোরিন্থিয়ান্সের প্রধান কোচ লুকাস পিকিনাটো ম্যাচের পর মিডিয়াতে বললেন, “গথাম ও আর্সেনালকে ফাইনালে দেখতে সবাই আশা করছিল, তবে আমরা নিজেদের শক্তি প্রমাণ করে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে গেছি।” তিনি যোগ করেন, “আমরা জানি আমরা কী করতে পারি এবং আজকের পারফরম্যান্স তা নিশ্চিত করেছে।” পিকিনাটো আরও উল্লেখ করেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, তবে আমরা ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছি, প্রতিপক্ষ যাই হোক না কেন, ইংল্যান্ডে ট্রফি নিয়ে ফিরে আসা আমাদের লক্ষ্য।” তার কথায় দলীয় আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্টতা প্রকাশ পায়। কোচের এই মন্তব্যগুলো কোরিন্থিয়ান্সের জয়ের পরবর্তী লক্ষ্যকে তুলে ধরে।
গথামের প্রধান কোচ হুয়ান কার্লোস অ্যামোরোসও ম্যাচের পর নিজের মতামত প্রকাশ করেন, “তারা একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছে এবং তা সফল হয়েছে।” তিনি স্বীকার করেন, “আমাদের দলও প্রস্তুত কৌশল অনুসরণ করেছে এবং আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রেখেছি, তবে গোল না করার ফলে আমরা শাস্তি পেয়েছি।” অ্যামোরোস গথামের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা প্রতিটি দিকেই ভাল খেলেছি, তবে শেষ মুহূর্তে গোল না করতে পারা আমাদের ক্ষতি করেছে।” তিনি শেষ করে বলেন, “প্রতিপক্ষের জয়কে স্বীকার করে আমরা ভবিষ্যতে উন্নতি করার চেষ্টা করব।” এই মন্তব্যগুলো গথামের আত্মবিশ্লেষণ ও উন্নতির ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সেমি‑ফাইনালের দিন স্টেডিয়ামে ভিড়ের সংখ্যা সীমিত ছিল, তবে কোরিন্থিয়ান্সের সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে ভরে উপস্থিত ছিলেন। তারা একসাথে গাইতে গাইতে স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার পার হয়ে দলকে উত্সাহিত করতে দেখা যায়। কোরিন্থিয়ান্সের ভক্তরা তাদের দলকে সমর্থন জানাতে চিৎকার করে এবং দলীয় জার্সি পরিধান করে উপস্থিত ছিলেন। গথামের সমর্থকও কিছু সংখ্যায় উপস্থিত থাকলেও কোরিন্থিয়ান্সের ভক্তদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এই উত্সাহী পরিবেশে দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেখিয়েছেন।
ফিফা সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার ফি ৮৩.৬% বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালের তুলনায় $২৮.৬ মিলিয়ন (প্রায় £২০.৮ মিলিয়ন) হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৩৫টি নারী ক্লাব আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার ফি প্রদান করেছে, যা পূর্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। নারী ফুটবলে আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের এই উত্থান গেমের বাণিজ্যিক দিককে শক্তিশালী করছে। ফিফার এই তথ্যগুলো নারী ফুটবলের দ্রুত বিকাশ ও বিনিয়োগের প্রবণতা নির্দেশ করে। কোরিন্থিয়ান্সের জয়ও এই প্রবণতার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীদের ফুটবলের মানোন্নয়নে অবদান রাখবে।
কোরিন্থিয়ান্সের কোচ পিকিনাটো উল্লেখ করেন, “ফাইনালের প্রস্তুতি আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি, প্রতিপক্ষ যাই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য ইংল্যান্ডে ট্রফি নিয়ে ফিরে আসা।” গথাম ও আর্সেনালকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তবে এখন কোরিন্থিয়ান্সের জয় সেই সম্ভাবনাকে বদলে দিয়েছে। ফাইনালের তারিখ ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় দলই শীর্ষ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। কোরিন্থিয়ান্সের জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে এবং ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করেছে। এই সেমি‑ফাইনাল ম্যাচটি নারী ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ডে থাকবে।
এই জয় WSL ও NWSL এর মধ্যে দীর্ঘদিনের গর্বের লড়াইকে নতুন দৃষ্টিকোণ দেয়। উভয় লিগই বিশ্বের শীর্ষ স্তরে বিবেচিত, এবং কোরিন্থিয়ান্সের বিজয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্রাজিলীয় ক্লাবের শক্তি প্রদর্শন করে। গথাম, যা NWSL চ্যাম্পিয়ন, যদিও পরাজিত হয়েছে, তবু তাদের পারফরম্যান্সে গর্বের বিষয় রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই দুই লিগের মধ্যে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত, যা নারী ফুটবলের গ্লোবাল মানোন্নয়নে সহায়তা করবে। ফিফা উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ফাইনাল এখন কোরিন্থিয়ান্সের হাতে, এবং তারা ইংল্যান্ডে ট্রফি নিয়ে ফিরে আসার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত।



