থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকা আজ প্রাতঃকালেই জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী দিলাওয়ার হোসেনের তিনটি প্রচারপোস্টার ধ্বংসের মুখে পড়ে। পোস্টারগুলোকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও দুইটি অন্য স্থানে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা দাবি করেন।
থাকুরগাঁও জেলা জামায়াত-এ-ইসলামির সহ-সচিব জেনারেল মোঃ কোফিল উদ্দিন, যিনি থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালকও, বিকেলের সময় থাকুরগাঁও সরকারি বয়স হাই স্কুল মাঠে সংগঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সমাবেশে উপস্থিত জামায়াত কর্মীরা জানিয়েছেন, পোস্টার ভাঙচুরের পর তারা তৎক্ষণাৎ একটি প্রতিবাদ মার্চ শুরু করে, যা স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করে একই স্থানে ফিরে আসে।
কোফিল উদ্দিনের মতে, ভাঙচুরের সময় পোস্টারগুলোকে তাড়া-ধরা করে কেটে ফেলা হয় এবং তা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি এই কাজের দায়িত্বে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তোলেন।
তিনি আরও জানান, পোস্টার ধ্বংসের পাশাপাশি বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা জামায়াত ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচার থেকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে।
কোফিল উদ্দিন ভাঙচুরের দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি করেন। তিনি প্রশাসনকে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানান।
প্রার্থী দিলাওয়ার হোসেন সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বলেন, “যারা এই কাজের পেছনে আছে বা উস্কে দিচ্ছে তাদের আমরা জানি। আইনকে সম্মান করে আমরা কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেব না, তবে পুনরায় এমন ঘটনা ঘটলে আমরা নীরব থাকব না।”
বিএনপি থাকুরগাঁও জেলা ইউনিটের সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনও একই সময়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জামায়াতের মতোই তাদেরও প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।
মির্জা ফয়সাল আমিন জোর দিয়ে বলেন, “যদি জামায়াত জানে যে দোষীজন বিএনপি কর্মী, তবে তাদের নাম প্রকাশ করা উচিত এবং প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাই।”
প্রতিবাদ সমাবেশের পর স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার বা শাস্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী পরিবেশের উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দলই প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আহ্বান জানাচ্ছে।
থাকুরগাঁও-১-এ নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি, তবে ভবিষ্যতে ঘটনার তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।



