23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুতুবদিয়ায় নিষিদ্ধ হাঙ্গর মাছ বিক্রির প্রচেষ্টায় ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকার জরিমানা

কুতুবদিয়ায় নিষিদ্ধ হাঙ্গর মাছ বিক্রির প্রচেষ্টায় ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকার জরিমানা

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় হাঙ্গর মাছের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। নুরুল হক নামের ওই ব্যবসায়ী, ২৮ জানুয়ারি বুধবার, বড়ঘোপ জেটিঘাট এলাকায় ভ্যানগাড়ি ব্যবহার করে নিষিদ্ধ হাঙ্গর মাছকে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশে ধরা পড়ে। আইনগত প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ তাকে ৪০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়।

সেই দিন সকালে নুরুল হককে স্থানীয় পুলিশ টহল দল হাঙ্গর মাছের গুদামজাত প্যাকেজিং এবং বিক্রয় সরঞ্জামসহ আটক করে। হাঙ্গর মাছের প্রজাতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২ অনুসারে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, তাই তার বিক্রয় প্রচেষ্টা অবৈধ বলে গণ্য হয়। আটককৃত মাছের পরিমাণ ও প্রকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করা হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, মাছটি বাজারে বিক্রি হলে স্থানীয় মাছের চাহিদা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারত।

অটকৃত ব্যবসায়ীকে জরিমানা আরোপের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব উল আলম। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২ এর ধারা অনুসারে জরিমানা নির্ধারণ করেন। মামলাটি দ্রুত সমাপ্তির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অধিকার ব্যবহার করা হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে আইন প্রয়োগের গতি বাড়াতে সহায়তা করে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য মূল আইনি কাঠামো। এই আইনের অধীনে হাঙ্গরসহ নির্দিষ্ট সামুদ্রিক প্রাণীর শিকারের, বিক্রয় ও পরিবহনের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনটি লঙ্ঘন করলে জরিমানা, কারাদণ্ড বা উভয়ের সংমিশ্রণ হতে পারে, যা পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংক্রান্ত এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে, অবৈধ মাছ শিকারের গোপন নেটওয়ার্ক উন্মোচন ও দমন করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টহল দল গঠন এবং তথ্য শেয়ারিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

এই ঘটনার পর, নুরুল হকের বিরুদ্ধে আরও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগ একটি যৌথ তদন্ত চালু করেছে। তদন্তে হাঙ্গর মাছের সরবরাহ শৃঙ্খল, সম্ভাব্য সহযোগী ও বিক্রয় চ্যানেলগুলো চিহ্নিত করা হবে। যদি অতিরিক্ত লঙ্ঘন বা সহায়ক পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিকন্তু, স্থানীয় বাজারে হাঙ্গর মাছের চাহিদা কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য তথ্য প্রচার অভিযান চালু করা হয়েছে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থা মিলিত হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং অবৈধ মাছ শিকারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে জানাতে সচেষ্ট। এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংক্ষেপে, কুতুবদিয়ায় হাঙ্গর মাছ বিক্রির প্রচেষ্টা ধরা পড়ে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে জরিমানা আরোপ করা হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে একই ধরনের লঙ্ঘন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এই ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনকে কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশগত দায়িত্বের প্রতি জনসচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments