শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ‑চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব সম্পর্কে বিশদ মন্তব্য করেন।
২৪ই মার্চের চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময় দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভের সঞ্চার ঘটায়।
ইউনূস উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে দেশের তরুণরা তীব্র উত্তেজনা প্রকাশ করে, তাদের প্রতিক্রিয়া যেন ফুটন্ত তেলের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ইন্টারনেটের অপ্রাপ্যতা তরুণদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে; তারা এই সীমাবদ্ধতা সহ্য করতে পারেনি।
এই উত্তেজনা ও ক্ষোভের ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত একটি “মহাশক্তিশালী সরকারকে পালাতে” বাধ্য করেছে, এমন মন্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের তীব্রতা তুলে ধরেন।
ইউনূস প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারণের দ্রুত সমন্বয়ের আহ্বান জানান, উল্লেখ করেন যে সরকারকে এই পরিবর্তনের গতি অনুসরণ করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম শুধুমাত্র বাংলাদেশি নাগরিক নয়, তারা বিশ্বনাগরিকের পরিচয় বহন করে, যা তাদের দায়িত্ব ও গর্বকে দ্বিগুণ করে।
এদিকে, তিনি সতর্ক করেন যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল না মিলালে বাংলাদেশ দ্রুত পিছিয়ে পড়বে, কারণ অন্যান্য দেশ ইতিমধ্যে দ্রুত পরিবর্তনকে বাস্তবায়ন করছে।
ইন্টারনেটকে আলাদা “খাত” হিসেবে বিবেচনা করা একটি বড় ভুল, তিনি উল্লেখ করেন; প্রযুক্তি নিজেই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূল ভিত্তি।
প্রধান উপদেষ্টা প্রজন্মের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল ফাঁককে উল্লেখ করে বলেন, আজকের আধুনিক ধারণা পূর্বের গুহা-যুগের মত শোনায়, যা নীতি নির্ধারণে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
তার মতে, বর্তমান যুব প্রজন্মকে “ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম” বলা যায়, কারণ তাদের হাতে প্রযুক্তি আলাদিনের চেরাগের মতো কাজ করে, যা সমাজের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউনূস পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, উল্লেখ করেন যে অনেক প্রকল্প প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অন্তর্বর্তী সরকার ইন্টারনেট বন্ধকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা তার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উল্লেখিত সব দিকের আলোকে, সরকার ও নীতিনির্ধারকদের আগামী দিনে প্রযুক্তি‑নির্ভর নীতি গঠনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



