টাঙ্গাইলের ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি চাপিয়ে দেওয়া অপপ্রচারের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা বিকেলে ভূঁয়াপুর থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগটি প্রচার বাধা ও হামলার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয় এবং একই সময়ে ভূঁয়াপুর প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঁয়াপুর) আসনের জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী ও জেলা শাখার সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, ভূঁয়াপুর উপজেলা জামায়াত-এ-ইসলামি আমির আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। তিনজনই বিএনপির ভোটার টাকা বিতরণ সংক্রান্ত অভিযোগকে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে খণ্ডন করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “নির্বাচনী মাঠে আমাদের জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দেখে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এসব অপপ্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাদের প্রচার কার্যক্রমে কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ নেই।
রবিউল আলম তালুকদার যোগ করেন যে, বিএনপি দলের কিছু কর্মী তাদের ঘরে প্রবেশের সময় হুমকি ও শারীরিক আক্রমণের চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে এবং তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপের দাবি রাখে।
আবদুল্লাহ আল মামুনও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কোনো ধরনের ভোটারকে টাকা বা উপহার দিয়ে প্রভাবিত করিনি। আমাদের লক্ষ্য কেবল জনগণের সেবা করা এবং সঠিক নীতিমালা প্রয়োগ করা।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন যে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে তারা স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
ভূঁয়াপুর থানা-এ দায়ের করা অভিযোগের বিষয়বস্তু হল প্রচার বাধা, হুমকি এবং শারীরিক আক্রমণ। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং থানা-এ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
থানার ওয়্যারিং অফিসার মো. সাব্বির রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন যে, টাঙ্গাইলে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে এবং উভয় দলই একে অপরের ওপর অভিযোগের ঢেউ তুলছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন যে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
বিএনপি পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বে তারা জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাদের ওপর ভোটার টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিল।
জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে থানা-এ তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নির্বাচনী সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় সকল রাজনৈতিক দলকে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বলা হচ্ছে।
অবশেষে, টাঙ্গাইলের ভোটারদের জন্য এই বিষয়টি একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে যে, নির্বাচনী সময়ে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় অভিযোগ বা অপপ্রচার সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে এবং তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।



