23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজয়পুরহাট সদর ইউএনওকে জিম্মি পরিস্থিতি সিমুলেট করে নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাট সদর ইউএনওকে জিম্মি পরিস্থিতি সিমুলেট করে নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বুধবার দুপুরে ইউএনওকে জিম্মি করার দৃশ্যসহ একটি নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‍্যাব এবং জেলা পুলিশ একত্রে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে দুইজন ‘দুর্বৃত্ত’কে আটক করে ইউএনওকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মহড়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তি ইউএনও আশিক-উর রহমানের অফিসে প্রবেশ করে তাকে জিম্মি করার ভান করে, ফলে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিশেষ ইউনিট এবং র‍্যাবের সদস্যরা চারপাশে ঘিরে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে, সাইরেনের শব্দে পরিবেশ তীব্র হয়ে ওঠে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে দুজন ‘দুর্বৃত্ত’কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে নিরাপত্তা গার্ডে নিয়ে গিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, একই সঙ্গে ইউএনওকে কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে মুক্তি দেওয়া হয়।

এই ঘটনাটি বাস্তব অপরাধ নয়; এটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে যৌথ বাহিনীর একটি মহড়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়।

মহড়ার সময়সূচি অনুযায়ী ইউএনও অফিসে ‘দুর্বৃত্ত প্রবেশ’ এবং ‘জিম্মি পরিস্থিতি’ তৈরি করা হয়, এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা চারপাশে ঘিরে কৌশলগতভাবে অবস্থান নেয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।

মহড়া চলাকালীন সাইরেনের শব্দ, দৌড়ঝাঁপ এবং অস্ত্রধারী সদস্যদের উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে অস্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে যখন নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম স্পষ্ট হয়।

উপসথলীর সামনে গড়ে ওঠা ভিড়ের মধ্যে কিছু মানুষ প্রথমে ঘটনাটিকে বাস্তব ভেবে আতঙ্কিত হয়, পরে জানার পর স্বস্তি প্রকাশ করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানা বলেন, “হঠাৎ করে চারদিকে পুলিশ আর সেনাবাহিনী দৌড়ে আসতে দেখে আমরা ভেবেছিলাম কোনো বড় ঘটনা ঘটেছে, পরে জানলাম এটি মহড়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।”

অন্য একজন পথচারী রুবিনা বেগম জানান, “প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম, যেন সিনেমার দৃশ্য দেখা যায়, পরে জানলাম নির্বাচন সামনে রেখে মহড়া, তাই ভালো লাগল—কমপক্ষে তারা প্রস্তুত।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা বা জিম্মি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা যাচাই করার জন্য এই মহড়া আয়োজন করা হয়।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‍্যাব এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা জিম্মি উদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ এবং দ্রুত সমন্বয় ক্ষমতা পরীক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর রহমান উল্লেখ করেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন, তাই মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে এ ধরনের মহড়া অপরিহার্য।”

এই মহড়া থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments