সাইবারসিকিউরিটি ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (CISA) এর কার্যনির্বাহী প্রধান মধু গোট্টুমুক্কালা, ট্রাম্পের নিযুক্তি, সরকারী ব্যবহার‑যোগ্য চিহ্নিত চুক্তি নথি চ্যাটজিপিটি-তে আপলোড করেন। এই কাজটি স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কতা সক্রিয় করে, যা ফেডারেল নেটওয়ার্ক থেকে ফাইল চুরি বা অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ রোধের জন্য তৈরি।
আপলোড করা নথিগুলো “শুধুমাত্র সরকারি ব্যবহারের জন্য” চিহ্নিত ছিল এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সীমাবদ্ধ। সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা মেকানিজম একাধিকবার সতর্কবার্তা জারি করে, যা নির্দেশ করে যে সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেছে।
গোট্টুমুক্কালা তার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুর সময় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ অনুমতি পেয়েছিলেন, যদিও একই সময়ে অন্যান্য কর্মচারীদের এই সরঞ্জাম ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। এই ব্যতিক্রমী অনুমতি তাকে সরকারি নথি বিশ্লেষণ ও সংক্ষিপ্তসার তৈরিতে এআই ব্যবহার করতে সক্ষম করে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আপলোডের ফলে সরকারী নিরাপত্তায় কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য তদন্ত শুরু করেন। তারা নথিগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব, তথ্যের অননুমোদিত প্রবেশ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতির প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করছেন।
অবclassified হলেও অভ্যন্তরীণ সরকারী নথি পাবলিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে আপলোড করা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এআই মডেলগুলো আপলোড করা তথ্য থেকে শিখে ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ফলে গোপনীয় তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে বিস্তৃত হতে পারে।
CISA এর মুখপাত্র গোট্টুমুক্কালার চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ব্যাপারে জানিয়ে বলেন যে এই ব্যবহার “স্বল্পমেয়াদী এবং সীমিত” ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো স্থায়ী নীতি পরিবর্তন না করে জরুরি কাজের জন্যই এই অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল।
গোট্টুমুক্কালা পূর্বে দক্ষিণ ডাকোটার সিইও (Chief Information Officer) হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে তিনি তখনকার গভার্নর ক্রিস্টি নোমের অধীনে তথ্যপ্রযুক্তি নীতি তত্ত্বাবধান করতেন। তার এই অভিজ্ঞতা তাকে ফেডারেল সাইবারসিকিউরিটি ক্ষেত্রে উচ্চপদে নিয়োগের পটভূমি সরবরাহ করেছে।
ট্রাম্পের প্রশাসন গোট্টুমুক্কালাকে CISA তে কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে নিয়োগের পর, তিনি সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান শুরু করেন। তবে তার দায়িত্বকালে একাধিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা প্রকাশ পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোট্টুমুক্কালা একটি কাউন্টারইন্টেলিজেন্স পলিগ্রাফে ব্যর্থ হন, যা DHS পরে “অননুমোদিত” বলে ঘোষণা করে। এই ফলাফল সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রোটোকলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তার নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করে।
ফলস্বরূপ, DHS ছয়জন ক্যারিয়ার কর্মচারীর ক্লাসিফাইড তথ্যের প্রবেশাধিকার স্থগিত করে। এই পদক্ষেপটি গোট্টুমুক্কালার নিরাপত্তা নীতির লঙ্ঘনকে প্রতিক্রিয়া জানাতে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়।
এই ঘটনা ফেডারেল স্তরে এআই টুল ব্যবহারের নীতিমালা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে সরকারী নথি ও সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে কীভাবে নিরাপদে এআই ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে এখন আলোচনা তীব্রতর হচ্ছে।
অধিক তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট নীতিগত পরিবর্তনগুলো পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, গোট্টুমুক্কালার ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং CISA তে তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নজর রাখছেন।



