বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আগামীকাল রাজশাহীতে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন, যা তার তিন দিনের নির্বাচনী সফরের প্রথম পদক্ষেপ। সফরটি রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও তাঙ্গাইল এই ছয়টি জেলায় মোট ছয়টি সমাবেশ নিয়ে গঠিত।
তারেক রহমান দুপুর ১২:২৫টায় ঢাক থেকে বিমান দ্বারা রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছেন। শহরে পৌঁছানোর পর ১:৩০টায় শাহ মাখদুম (র) মাজারে নামাজ আদায়ের পর ২:০০টায় রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে প্রথম সমাবেশে অংশ নেবেন। এই সমাবেশে রাজশাহী অঞ্চলের ১৩টি আসন ও উত্তরাঞ্চলের মোট ৩৯টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
বিএনপি নেতারা জানান, রাজশাহীতে তারেকের এই সমাবেশ দুই দশকেরও বেশি সময়ে সর্বোচ্চ জনসমাগম হবে; শেষবারের মতো এমন বৃহৎ সমাবেশ ২০০৪ সালে শহরের স্টেডিয়ামে বিভাগের কর্মী সম্মেলনের সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সন্ধ্যায় ৫:৩০টায় নওগাঁয়ের কাজির মোর এলাকায় এটিএম মাঠে আরেকটি সমাবেশের জন্য তারেকের সময়সূচি নির্ধারিত। সমাবেশের পর ৭:৩০টায় বগুড়ার আলতাফুননেসা প্লেগ্রাউন্ডে সমাবেশে অংশ নেবেন এবং রাতের বেলা হোটেল নাজ গার্ডেনে অবস্থান করবেন।
৩০ জানুয়ারি তারেক রহমান রংপুরের পিরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের সমাধিতে শোকসন্ধ্যা পালন করবেন, যা জুলাই বিদ্রোহের প্রথম শহীদ। সমাধি পরিদর্শনের পর ৪:৩০টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশের মঞ্চে উঠবেন এবং রাতের বেলা বগুড়ি ফিরে আসবেন।
তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ উভয় আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বগুড়া-৬ আসনে ২০০৮ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী সব নির্বাচনে জয়ী হয়েছে; ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত খালেদা জিয়া এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই আসন থেকে তারেকের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
৩১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে বিএসসিআইসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে দুপুর ২:০০টায় সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে, এরপর দুপুর ৪:০০টায় আরেকটি সমাবেশে অংশ নেবেন। এই সমাবেশগুলো সিরাজগঞ্জের নির্বাচনী জায়গায় বিএনপি উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত।
বিএনপি এই ছয় দিনের সফরের মাধ্যমে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চায়, পাশাপাশি তারেকের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী হিসেবে উপস্থিতি জোরদার করতে চায়। সমাবেশগুলোতে স্থানীয় পার্টি নেতারা ও প্রার্থী দলবদ্ধ হয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সফরের শেষ দিনে সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত সমাবেশের পর তারেকের দল পরবর্তী নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য বিশ্লেষণ সভা করবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে।



