গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দপ্তরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা চারটি মূল দাবির জন্য মুলা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ পরিচালনা করেছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ছাত্রনেতারা বাজেট বরাদ্দের অগ্রগতি না হওয়া, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বক্সের অনুপস্থিতি, শিক্ষক সংকট সমাধানে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিলম্ব, আইডি কার্ডে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি উল্লেখ করে দাবি তুলে ধরেছেন।
দাবিগুলোকে বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের আশ্বাসের পরেও হতাশা প্রকাশ করেছে। তাই মুলা ঝুলিয়ে ‘আশ্বাসের মুলা’ হিসেবে প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়, যা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া না পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরক্তি বাড়িয়েছে।
প্রতিবাদে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন গোবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব, দাওয়াহ সম্পাদক মো. সোহেল রানা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মিশকাতুল আলম অলি, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ইব্রাহিম এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা। হাবিব উল্লেখ করেন, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বহু বছর ধরে উন্নত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এবং পূর্বের ও বর্তমান প্রশাসন উভয়ই শুধুমাত্র মুখে আশ্বাস দিয়ে সমস্যার সমাধান করেনি।
উপাচার্য হোসেন উদ্দিন শেখর জানান, বাজেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে গৃহীত হয়, যা গোবিপ্রবির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নয়। তবুও তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট পূর্বের তুলনায় কয়েক কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগের একটি হল নতুন শিক্ষক নিয়োগের ধীরগতি, এবং এই প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।
ক্যাম্পাস নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি সম্পর্কে উপাচার্য উল্লেখ করেন, পুলিশ বক্সের স্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ, তবে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আইডি কার্ডে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, আইডি কার্ডের ফি নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ধার্য করা হয় এবং অতিরিক্ত চার্জের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পর্যালোচনা চলছে।
প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা জোর দিয়ে বলেছে, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা আর কোনো আশ্বাসে সন্তুষ্ট হবে না। মুলা ঝুলিয়ে এই প্রতিবাদটি শুধু একটি প্রতীকই নয়, বরং প্রশাসনের প্রতি তীব্র চ্যালেঞ্জের সূচক।
গোবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও কর্মীরা ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যার সমাধান না হলে আরও বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ: প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত আবেদন জমা দিন, তারপর ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে দাবি উপস্থাপন করুন। যদি প্রশাসন থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া যায়, তবে আইনি পরামর্শ নিয়ে শিক্ষার্থী অধিকার সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
এই ধরনের প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও কাঠামোকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর চাহিদা ও প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় ঘটলে গোবিপ্রবির শিক্ষার মান উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।



