ঢাকা শহরের জাত্রাবাড়ি এলাকার পুলিশ আউটপোস্টের শৌচাগারে আজ সকালে এক কনস্টেবল মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃতের নাম শাফিকুল ইসলাম, বয়স ৪২ বছর। তার দেহের অবস্থান ও সময়ের বিষয়ে তদন্ত চলমান।
শাফিকুল ইসলাম জাপানপদ মোর পুলিশ আউটপোস্টে কাজ করতেন, যা জাত্রাবাড়ি থানা অধীনে রয়েছে। তিনি গত পাঁচ‑ছয় মাস ধরে ওই পোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তা থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. রজু নিশ্চিত করেন। তার কর্মজীবনের বিবরণে উল্লেখ আছে, তিনি নিয়মিত শিফটে দায়িত্ব পালন করতেন।
মঙ্গলবার রাতের দিকে শাফিকুল তার বড় মেয়ের কাছে একটি বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন যে তিনি তার জন্য কিছু করতে পারছেন না এবং বাকি সন্তানদের দেখাশোনা করার অনুরোধ করেন। মেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করে, তবে কোনো উত্তর পাননি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা হল, শাফিকুল মানসিক চাপের ফলে আত্মহত্যা করেছেন। অফিসার‑ইন‑চার্জ জানান, শাফিকুলের মানসিক সমস্যার জন্য চিকিৎসা চলছিল। আত্মহত্যা সন্দেহের ভিত্তিতে পোস্টে আত্মহত্যা সন্দেহজনক ঘটনা হিসেবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শাফিকুলের পরিবার জানায়, তার মানসিক অবস্থা খারাপ হওয়া শুরু হয় ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে, যখন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে একটি পুলিশ পোস্টে প্রতিবাদকারীরা আগুন জ্বালায়। শাফিকুল সেই সময় সেখানে দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনাটির পর থেকে তিনি উদ্বেগ ও দুঃখের লক্ষণ দেখাতে শুরু করেন।
শাফিকুলের চাচাতো ভাই মো. পারভেজের মতে, আগুনের পর শাফিকুল চাকরি ছাড়তে চেয়েছিলেন, তবে এক মাসের বিরতির পর আবার দায়িত্বে ফিরে আসেন। পারভেজ উল্লেখ করেন, শাফিকুলের কাজের চাপ ও মানসিক কষ্টের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় এক বছর আগে শাফিকুলের বাম বাহু ভাঙা একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেই সময়ের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল বলে পরিবার জানায়।
মৃতদেহের অটোপসি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মরগে করা হয় এবং পরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে শেষিক্রিয়া করা হয়। শেষিক্রিয়া শেষে পরিবারকে শোক প্রকাশের জন্য সময় দেওয়া হয়।
পোস্টে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ভিডিও রেকর্ডিং এবং পোস্টের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিবৃতি গ্রহণের পাশাপাশি আত্মহত্যার কারণ নির্ণয়ের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতামতও নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের আইন অনুসারে আত্মহত্যা অপরাধ নয়, তবে আত্মহত্যা সন্দেহজনক ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশকে কারণ অনুসন্ধান করতে হয়। তাই এই মামলায় আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ ও শাফিকুলের মানসিক অবস্থা কীভাবে প্রভাবিত করেছে তা নির্ধারণ করা হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, পুলিশ বিভাগে কর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তা ও পরামর্শ সেবা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। শাফিকুলের পরিবারও এই ধরনের সহায়তা ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।



