মাদ্রাস হাই কোর্ট বুধবার মাদারনি ৩ চলচ্চিত্রের কপিরাইট রক্ষার জন্য অস্থায়ী অ্যান্টি‑পাইরেসি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। রানি মুখার্জির প্রধান ভূমিকায় অভিনীত এই হিন্দি ছবি, ইয়াশ রাজ ফিল্মসের উৎপাদন। আদালত এই আদেশটি চলচ্চিত্রের প্রকাশের আগে ও পরে সম্ভাব্য পাইরেসি রোধের উদ্দেশ্যে প্রদান করেছে।
বিচারক সেন্থিলকুমার রামমূর্তি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) ও কেবল টেলিভিশন অপারেটরদের কোনো অননুমোদিত সম্প্রচার, ট্রান্সমিশন বা বিতরণে বাধা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মানে এই সংস্থাগুলোকে ছবির কোনো অংশ অনলাইন বা টেলিভিশনে প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখা।
আদালত উল্লেখ করেছেন, মুক্তির পূর্বে পাইরেসি ঘটলে কপিরাইট ধারকের ক্ষতি অপরিবর্তনীয় হতে পারে। একবার অবৈধ কন্টেন্ট জনসাধারণের হাতে পৌঁলে গেলে, উৎপাদকের বাণিজ্যিক স্বার্থে সৃষ্ট ক্ষতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
একই সঙ্গে, আদালত অ্যান্টি‑পাইরেসি নিষেধাজ্ঞার ব্যাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিস্তৃত আদেশ আইএসপি ও কেবল অপারেটরদের বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যদিও তারা সরাসরি পাইরেসি কার্যকলাপে জড়িত নয়।
এই দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য আদালত শর্ত আরোপ করেছে যে, ইয়াশ রাজ ফিল্মসকে একটি ইন্ডেম্নিটি প্রদান করতে হবে। ইন্ডেম্নিটি মূলত আইএসপি ও কেবল অপারেটরদের সম্ভাব্য বৈধ ব্যবসায়িক ক্ষতি পূরণ করবে, যা অস্থায়ী আদেশের কার্যকারিতা বজায় রাখবে।
ইয়াশ রাজ ফিল্মসের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলাটি মাদারনি ৩-কে অবৈধ টেলিকাস্ট বা অনলাইন শেয়ারিং থেকে রক্ষা করার ইচ্ছা থেকে উত্থাপিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চপ্রোফাইল চলচ্চিত্রের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে পাইরেসি ঘটার ঘটনা বাড়ছে, তাই প্রযোজক সংস্থা গুলো সতর্কতা অবলম্বন করছে।
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এখন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না আদালত বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করে। পরবর্তী শুনানির তারিখ ও শর্তাবলী এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে বর্তমান আদেশের মাধ্যমে ছবির প্রি‑রিলিজ পর্যায়ে কোনো অননুমোদিত প্রচার রোধ করা হবে।
এই পদক্ষেপটি চলচ্চিত্র শিল্পে কপিরাইট সুরক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। আইনি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উৎপাদনকারী ও বিতরণকারী উভয়ের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে দর্শকরা সঠিক সময়ে থিয়েটারে ছবিটি উপভোগ করতে পারে।
মাদারনি ৩-র মুক্তি নিকটবর্তী হওয়ায়, ইয়াশ রাজ ফিল্মসের এই আইনি পদক্ষেপটি অন্যান্য প্রযোজক সংস্থার জন্যও সতর্কতা স্বরূপ হতে পারে। ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলার সংখ্যা বাড়তে পারে, যা ডিজিটাল কন্টেন্টের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



