দেবীদ্বার সদরের নিউমার্কেট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে বুধবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার শর্ত জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১১‑দলীয় জোট সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে কুমিল্লাকে নতুন বিভাগ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কারণ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
র্যালিতে এনসিপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের পদে আসিফ মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তার আগে তিনি ক্যারাভানে করে স্থানীয় ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে গেছেন, যা জোটের ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন।
আসিফ মাহমুদের মতে, কুমিল্লা বিভাগ গঠনের জন্য গত দেড় বছরে যে সব ধাপ প্রয়োজন ছিল, সেগুলো শেষ হয়েছে; এখন কেবল সরকারী ঘোষণার অপেক্ষা। তিনি যোগ করেন, ১১‑দলীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় এলে ইনশা আল্লাহ এক মাসের মধ্যে বিভাগ ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা হবে।
র্যালিতে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি ও মুরাদনগরের বিএনপি প্রার্থীর সমালোচনাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন, তখন দেবীদ্বার ও কুমিল্লা‑৩ (মুরাদনগর) আসনের বিএনপি প্রার্থীর জন্য কোনো উন্নয়ন কাজ না হওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে পর্যন্ত নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখন জোট ক্ষমতায় এলে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, বিশেষ করে যারা জুলাই বিপ্লবে জীবন দিয়েছে।
যুবকদের জন্য তিনি ১৬ বছর বয়স থেকে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন। গার্মেন্টস বা রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না করে কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে, এবং কার্ড ভাতা দিয়ে তরুণদের পরনির্ভরশীল করা হবে না, বরং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে, এটাই তার মূল লক্ষ্য।
র্যালিতে কুমিল্লা‑৩ (মুরাদনগর) জামায়াতের প্রার্থী ইউছুফ সোহেল, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম এবং মুখ্য সংগঠক ফরহাদ সোহেলসহ বহু নেতা উপস্থিত ছিলেন। সবাই একত্রে দলীয় পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।
জাতীয় নাগরিক দলের এই ঘোষণার ফলে কুমিল্লা বিভাগ গঠনের সম্ভাবনা রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক উন্মোচন করবে। নতুন বিভাগ ঘোষণার মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন, বাজেটের পুনর্বণ্টন এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ত্বরান্বিত প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া আসিফ মাহমুদের এই প্রতিশ্রুতি জোটের ক্ষমতায় আসার পর দলীয় প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
অবশেষে, দলটি জোটের ক্ষমতায় আসার পর কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার জন্য এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক লক্ষ্যকে স্পষ্ট করেছে। এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং স্থানীয় জনগণের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী সপ্তাহে পরিষ্কার হবে।



