মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারির শুরুর দিকে প্রকাশিত নতুন পুষ্টি নির্দেশিকায় “স্বাস্থ্যকর চর্বি”কে উল্টো খাবার পিরামিডের শীর্ষে রাখা হয়েছে। USDA এবং HHS এই নির্দেশিকায় মাখন, গরুর চর্বি এবং অলিভ তেলকে উদাহরণস্বরূপ স্বাস্থ্যকর চর্বি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই পরিবর্তন পূর্বের নির্দেশিকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য, যেখানে উদ্ভিজ্জ উৎসের চর্বিকে প্রাণীজ চর্বির তুলনায় অধিক স্বাস্থ্যকর বলে প্রচার করা হতো।
নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখিত চর্বির উৎসগুলো বিভিন্ন রকমের খাবার থেকে আসে; স্টেক, অ্যাভোকাডো, স্যামন, অলিভ তেল, মাখন এবং বাদাম সবই তালিকাভুক্ত হয়েছে। যদিও অলিভ তেলকে হৃদরোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে মাখন ও গরুর চর্বির মতো স্যাচুরেটেড ফ্যাটের ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
পুষ্টি বিজ্ঞানী মারিয়ন নেস্টলে, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক, উল্লেখ করেন যে অলিভ তেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বা বাড়াতে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই, ফলে তা নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের পুষ্টি মহামারিবিদ ডেয়ার্ড টোবিয়াস জোর দিয়ে বলেন যে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে পলিইনস্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করা হৃদরোগ, কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস এবং সামগ্রিক মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর। তিনি ২০২৫ পুষ্টি নির্দেশিকা পরামর্শক কমিটির সদস্য ছিলেন এবং ডিসেম্বর ২০২৪-এ প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে এই ফলাফলকে সমর্থন করা হয়েছে।
বহু এপিডেমিওলজিক্যাল গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্লিনিকাল ট্রায়াল দেখিয়েছে যে পলিইনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যেমন ভেজিটেবল তেল ও বীজের তেল, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের তুলনায় হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। টোবিয়াসের মতে, এই ধরনের চর্বি গ্রহণের ফলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে, কিছু পুষ্টি বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেন যে অলিভ তেল এবং অন্যান্য একক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তেলগুলো নির্দিষ্ট শর্তে উপকারী হতে পারে, তবে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা সুপারিশ করেন যে দৈনন্দিন খাবারে পলিইনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের অনুপাত বাড়িয়ে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ সীমিত করা উচিত।
নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে মানবদেহের জন্য শুধুমাত্র দু’ধরনের চর্বি অপরিহার্য, এবং মাখন ও গরুর চর্বি এসবের জন্য উপযুক্ত নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি পুষ্টি বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে সমর্থিত, কারণ অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রধান উৎস হল মাছ, বাদাম, বীজ এবং উদ্ভিজ্জ তেল।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পুষ্টি নির্দেশিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে স্বাস্থ্যকর হিসেবে তালিকাভুক্ত করা বিজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞরা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে পলিইনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের গ্রহণ বাড়িয়ে হৃদরোগ ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে পেশাদার পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। আপনি কি আপনার দৈনন্দিন খাবারে চর্বির ধরন পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং স্বাস্থ্যকর পছন্দের দিকে একসাথে অগ্রসর হই।



