গুলশানের বিএনপি কার্যালয়ে বুধবার বিকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন একটি রাজনৈতিক দলের ওপর ধর্মীয় অনুভূতি অপব্যবহার, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচনী ক্ষেত্রের অসৎ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে, নির্বাচনী প্রচারকালে ভোটারকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে করা বিভিন্ন কৌশলকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ঐ দলটি সরকারে অংশগ্রহণ করেছিল এবং সেই সময়ে দুইজন মন্ত্রী ও কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিল। তবে সরকারে থাকাকালীন সময়ে ধর্মীয় বা নৈতিক বিষয়ক কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। এখন তারা নির্বাচনী মাঠে ফিরে এসে পূর্বের শাসনকালে গৃহীত নীতিগুলোকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটারকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে, এটাই তিনি ‘রাজনৈতিক দ্বিচারিতা’ বলে সমালোচনা করেছেন।
বক্তা বলেন, নির্বাচনের আগে দলটি ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটারকে জন্নাতের প্রলোভন, কোরআন শপথ এবং বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করার প্রস্তাব দিচ্ছে। এমন কৌশলগুলোকে তিনি ‘ধর্মীয় প্রলোভন’ এবং ‘অর্থের লালসা’ হিসেবে চিহ্নিত করে, ভোটারকে স্বার্থপরভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে, তিনি উল্লেখ করেন যে কিছু লোক নিজেরা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায় এবং অন্যদিকে দুর্নীতির গল্প শোনায়, যা তাদের সততা প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মাহদী আমিনের মতে, বগুড়া জেলায় অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ঐ দলের আমির বগুড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার ঘোষণা দেন। তবে বাস্তবে এই দুইটি প্রকল্পই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে অনুমোদিত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে, তাই বিদ্যমান সরকারি সিদ্ধান্তকে নতুন দলীয় প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করা ভোটারকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া, দলটি ভোটারকে অর্থ প্রদান, ধর্মীয় শপথ এবং অন্যান্য প্রণোদনা দিয়ে ভোট সংগ্রহের পরিকল্পনা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব দাবি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তৈরি করে, যা সকল রাজনৈতিক দলকে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, নির্বাচনী কোডের শর্তাবলী লঙ্ঘন করলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটার তালিকাভুক্তি ও ভোটের প্রস্তুতি চলমানের মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্ধারিত। প্রচারাভিযান ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ায়, বিএনপি এবং জামায়াত-এ-ইসলামি উভয়ই একে অপরের ওপর অভিযোগ তুলছে, যা ভোটের মাঠে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। উভয় দলই একে অপরের প্রচারকে ‘অসত্য’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে চিহ্নিত করেছে।
মাহদী আমিনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নওগাঁ সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে ঐ দলের নেতাকর্মীকে সমর্থন করার জন্য ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি ধর্মীয় স্থানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপি এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে এবং ভোটারকে সঠিক তথ্য প্রদান করে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারকে বিভ্রান্ত করার কোনো প্রচেষ্টা যদি ধরা পড়ে, তবে তা কঠোর শাস্তির আওতায় থাকবে।
অবশেষে, নির্বাচনের পূর্বে উভয় দলের মধ্যে তীব্র বিতর্কের ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে, এবং ভোটের দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হয় তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মূল বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।



