ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর – জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচনী প্রচার শেষে বাড্ডা এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে দাবি করেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ, হেনস্তা ও সমর্থকদের বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে, আর প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকা সম্ভব নয়।
নাহিদের মতে, গত মঙ্গলবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১‑দলীয় জোটের নারী কর্মীদের ওপর হেনস্তা ও শারীরিক আক্রমণ বাড়ছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক দলের দুই প্রার্থী, ঢাকা‑১৮ ও ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থীদের ওপর হেনস্তা ও শারীরিক হুমকি জানানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
প্রতিপক্ষ হিসেবে তিনি বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী পেশাদার শক্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের ভয় দেখাতে চায়। তিনি যুক্তি দেন, যদি এসব কাজ থামানো না যায়, তবে নির্বাচন একপক্ষীয় হয়ে যাবে এবং জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা প্রতিফলিত হবে না।
নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনী কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকরী প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এই অবহেলা ভোটারদের আস্থা ক্ষয় করে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।
বাড্ডা এলাকায় তার বক্তব্যের পর নাহিদ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন এবং ‘শাপলা কলি’ প্রতীক ব্যবহার করে ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন আহ্বান করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের উচিত ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা, যাতে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার সম্ভব হয়।
জাতীয় নাগরিক দলের ঢাকা‑১১ আসনের প্রার্থীও একই সময়ে স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। এ জন্য তিনি ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
প্রতিপক্ষের মন্তব্যের কোনো প্রকাশ না থাকলেও, বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচনী কমিশন এখনও এই অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
নাহিদের অভিযোগের পটভূমিতে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হেনস্তা, গুলিবিদ্ধ ও গাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না হয়, তবে ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং ফলস্বরূপ নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তারা সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ প্রচার চালাতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হলে ফলাফল একপক্ষীয় হয়ে যাবে এবং জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা প্রকাশ পাবে না। তাই তারা এখনই হিংসা ও হেনস্তা বন্ধের জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ চায়।
এদিকে, ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে। কিছু ভোটার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং নির্বাচনী দিন তাদের উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চিত বোধ করছেন। নির্বাচনী কমিশনকে দ্রুত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রকাশ করে ভোটারদের আশ্বাস দেওয়া প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় উল্লেখযোগ্য হেনস্তা ও আক্রমণের অভিযোগ তুলে সমান সুযোগের অভাবের কথা জানান। তিনি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান করেন, যাতে নির্বাচন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতে যদি এই সমস্যাগুলো সমাধান না হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে।



