বাংলাদেশের দুই সদস্যবিশিষ্ট শুটিং দলকে বুধবার সরকারী অনুমোদন (GO) প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিউ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারে। এই অনুমোদনটি দীর্ঘ আলোচনার পরই শেষ মুহূর্তে দেওয়া হয়েছে, যখন একই সময়ে ইন্টারিম সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ক্রিকেট দলের ভারত সফর প্রত্যাখ্যান করেছিল।
গো প্রাপ্তির পর দলটি ৩১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যাতে তারা চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম প্রতিযোগিতা, ৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে অংশ নিতে পারে। সরকারী অনুমোদন পত্রে উল্লেখ আছে যে শুটার এবং কোচ দুজনই একসাথে ভ্রমণ করবেন এবং সকল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলটির প্রধান শুটার রোবিয়ুল ইসলাম, যিনি দেশের শীর্ষ রাইফেল শুটার হিসেবে পরিচিত, ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শাখায় প্রতিযোগিতা করবেন। তার সঙ্গে রয়েছে শুটার-প্রশিক্ষক শারমিন আক্তার, যিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে দলকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে সমর্থন দেবেন। উভয়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের গর্ব বাড়ানোর দায়িত্বে আছেন।
যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম এই উন্নয়নটি দৈনিক স্টারকে জানিয়ে বলেন, শুটার ও কোচের ভ্রমণ আলাদা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং নিরাপত্তা দিক থেকে কোনো ঝুঁকি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, “শুটিং হল ইনডোর খেলা, দর্শক সংখ্যা সীমিত, এবং হোস্ট দেশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।” এই বক্তব্যে তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত হোস্ট দেশের আশ্বাসের ওপর জোর দিয়েছেন।
মহামারী পরবর্তী সময়ে বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্টে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার ফলে সরকার ক্রিকেট দলের সফর প্রত্যাখ্যানের পর শুটিং দলকে অনুমোদন দেওয়া একটি বিচিত্র সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায়। শুটিংয়ের ইনডোর প্রকৃতি এবং সীমিত দর্শকসংখ্যা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমিয়ে দেয়, যা ক্রিকেটের বড় স্টেডিয়াম ও বিশাল ভিড়ের তুলনায় ভিন্ন।
ক্রীড়া উপদেষ্টা নাফিস আহমেদ নাদভী শুটিং দলের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন জেনারেল সেক্রেটারি ফেরদৌস আরা খানমের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারী অনুমোদনের চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে দলকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ মিলেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC) ডিরেক্টর (স্পোর্টস) মোহাম্মদ আমিনুল আহসানও অনুমোদন প্রাপ্তির আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সব প্রয়োজনীয় নথি ইতিমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং এখন কেবল চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা বাকি। তিনি নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে শুটিংকে “কম ঝুঁকিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করে, “শুটিং হল ইনডোর খেলা, যেখানে দর্শক সংখ্যা সীমিত, ফলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ কম থাকে” বলে মন্তব্য করেন।
শুটিং দলের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোবিয়ুল ইসলাম এবং শারমিন আক্তার ৩১ জানুয়ারি রাতের ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছানোর পরে হোটেল ও প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তারা চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিমূলক সেশনে অংশ নেবে এবং স্থানীয় শুটিং রেঞ্জে অনুশীলন করবে। এই প্রস্তুতি তাদের পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ২০টি ইভেন্টের মধ্যে রোবিয়ুল ইসলাম ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শাখায় প্রতিযোগিতা করবেন, যেখানে শারমিন আক্তার কোচিং সাপোর্ট প্রদান করবেন। উভয়ের লক্ষ্য দেশের সোনার পদক অর্জন এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা। দলটি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই অনুমোদনটি দেশের ক্রীড়া নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার স্পোর্টসের বিভিন্ন শাখার জন্য পৃথক নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেয়, ফলে শুটিং দলের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কম বলে বিবেচনা করা হয়েছে। একই সময়ে ক্রিকেট দলের সফর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাতিল করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ শুটিং দল এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের গর্ব বাড়ানোর প্রস্তুতিতে রয়েছে, এবং এই সফর দেশের শুটিং ক্রীড়ার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তাদের পারফরম্যান্স ক্রীড়া জগতে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে।



