বুধবার বিকালে, উত্তরাঞ্চলের একটি উপজেলায় ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টার মধ্যে ভোটারদের হাতে নগদ টাকা বিতরণ করা এবং তাদের ওপর সহিংস আক্রমণ ঘটার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে অবস্থিত মসজিদে শুরু হয়, যেখানে এক ব্যক্তি মোবাইল ব্যবহার করে কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন দলবদ্ধ লোক তার পেছনে দৌড়ে আসে। কিছু ভোটারকে এক হাজার টাকা, অন্যদের পাঁচশ টাকা পর্যন্ত নগদ দেওয়া হয় এবং তাদের কাছ থেকে “টেহা দিসে আমাগোরে” শোনার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।
বিতরণ শেষ হওয়ার পর, জামাতের নেতাকর্মীরা একই স্থানে একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে। মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা মসজিদের সামনে একত্রিত হয়ে ভোটের জন্য তাদের দাবি পুনরাবৃত্তি করে এবং উপস্থিতদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। মিছিলের পর, জামাতের প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন এবং জানান যে, ভোট চাইতে দলের কর্মীরা অর্জুনা এলাকায় গিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নগদ বিতরণ ও সহিংসতার অভিযোগের পেছনে বিএনপি কর্মীরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা বের করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং জামাতের ওপর দোষারোপ করছেন।
মাওলানা হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের পর, তিনি জানান যে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ওপর ইতিমধ্যে থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এমন অপপ্রচার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এবং তা কঠোরভাবে নিন্দা করা উচিত।
অভিযোগের পাল্টা দিক থেকে, জামাতের কর্মীরা জগৎপুরা এলাকায় ভোট চাইতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের বাধা দেয়ার কথা জানান। তারা দাবি করেন যে, এই বাধা সৃষ্টিকর্তারা ভোটারদের মধ্যে নগদ বিতরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে গুলিবিদ্ধের সৃষ্টি করেছেন। ঘটনাস্থলে, কিছু ভোটারকে মারধর করা, গলায় থাকা মাফলার টেনে ফেলা এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ছিনে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আক্রমণের সময় তাদের সঙ্গীরাও শারীরিক হুমকির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় থানা অফিসার সাব্বির রহমানের মতে, এখনো কোনো অভিযোগের কপি তার হাতে পৌঁছায়নি। তিনি জানান যে, যদি অভিযোগ দাখিল করা হয়, তবে তা অনুসন্ধানের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পর্যায়ে, তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষী-সাক্ষাৎকারের কাজ চলছে।
এই ঘটনার ফলে, নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং উভয় দলের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের পরিমাণ বাড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন উভয়ই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।
ভূঞাপুরে ঘটিত এই নগদ বিতরণ ও সহিংসতার ঘটনা, নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোটারদের উপর চাপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে, যদি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি করা হবে।
এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। শেষ পর্যন্ত, ভোটের স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



