সকাল ২:৫০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (ডুকসু) ভবনের সামনে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন “ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ” নামে একত্রিত হয়ে আসন্ন রেফারেন্ডামের জন্য “হ্যাঁ” ভোটের প্রচার শুরু করার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণায় ডুকসু জেনারেল সেক্রেটারি এস.এম. ফারহাদ লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন, এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু শাদিক কায়েম সমাপনী মন্তব্য করেন।
প্রথম ক্যাম্পেইন হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেল ২টায় সিলেটের বান্দর বাজারের কোর্ট পয়েন্টে একটি বিভাগীয় র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। র্যালির মূল উদ্দেশ্য হল ভোটারদের কাছে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব তুলে ধরে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন গড়ে তোলা। ফারহাদ র্যালি চলাকালে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ ঐতিহাসিকভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছে।
এই র্যালিতে ছাত্র সমাজের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং সমন্বিত পদ্ধতিতে “হ্যাঁ” ভোটের আহ্বান জানানো হবে। র্যালিতে উপস্থিতি প্রত্যাশিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবার, মসজিদ ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, ব্যবসায়িক সমিতির সভাপতি, প্রেস ক্লাবের প্রধান, শিলপকলার একাডেমি ও ক্রীড়া সংস্থার প্রধান, শ্রমিক গোষ্ঠী এবং শিক্ষক, ডাক্তারসহ পেশাজীবীরা।
ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ গঠনকারী পাঁচটি ইউনিয়ন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (ডুকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (জুকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (রুকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (কুকসু) এবং যশোর বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (জনিউসু)।
আয়োজকরা র্যালির মাধ্যমে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব জনসাধারণের কাছে পরিষ্কার করতে, বিভ্রান্তি ও ভয়ের রাজনীতি শেষ করতে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তুলতে চায়। র্যালির পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় শহরে ধীরে ধীরে অনুরূপ অনুষ্ঠানগুলো চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রচারণার লক্ষ্য হল ভোটারদের মধ্যে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন বাড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা। র্যালি শেষে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে রেফারেন্ডামের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রেফারেন্ডামের ফলাফল সম্পর্কে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবস্থান ভিন্ন হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রেফারেন্ডাম দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং ছাত্র ইউনিয়নের এই ধরনের বৃহৎ ক্যাম্পেইন ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
র্যালির সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন থেকে সমর্থন নিশ্চিত করা হয়েছে। র্যালিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত গোষ্ঠীর সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এই ক্যাম্পেইন শেষ পর্যন্ত রেফারেন্ডামের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে কিনা তা সময়ই বলবে, তবে ছাত্র ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে একটি উল্লেখযোগ্য দিক নির্দেশ করবে।
রেফারেন্ডামটি দেশের সংবিধানিক কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করবে, এবং “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে ছাত্র ইউনিয়নের এই র্যালি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসন্ন র্যালিগুলোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং রেফারেন্ডামের ফলাফলকে নির্ধারিত দিকনির্দেশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



