কলম্বো হাই কোর্ট শ্রীলঙ্কার টি‑টোয়েন্টি লিগ (এলপিএল)‑এর ডাম্বুলা থান্ডার্স দলের মালিক, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তামিম রহমানকে ম্যাচ‑ফিক্সিং অভিযোগে চার বছরের স্থগিত কারাদণ্ড প্রদান করেছে। রায়টি বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, আদালতে ঘোষিত হয়।
তামিম রহমান আদালতে স্বীকার করেন যে তিনি একটি খেলোয়াড়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন এবং বেটিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। স্বীকারোক্তির পর বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত করে নির্ধারিত শাস্তি আরোপ করেন।
ডাম্বুলা থান্ডার্স শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি, যা দেশের সর্বোচ্চ স্তরের টি‑টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা। এই লিগে স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ থাকে এবং প্রতি মৌসুমে বিশাল দর্শকসংখ্যা আকর্ষণ করে।
অভিযুক্ত তামিমের স্বীকারোক্তি আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিচারক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফিক্সিংয়ের প্রচেষ্টা ক্রীড়া ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে এবং কঠোর শাস্তি অপরিহার্য।
শ্রীলঙ্কা সরকার ২০১৯ সালে ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধে একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে ম্যাচ‑ফিক্সিং, জুয়া এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তামিমের শাস্তি এই বিধানের প্রয়োগের একটি উদাহরণ।
কোর্টের রায়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ক্রীড়া সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি দেশের ক্রীড়া পরিবেশকে পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হবে। তারা উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তামিম রহমানের গ্রেফতার ২০২৪ সালে হয়। তার বিরুদ্ধে ফিক্সিং এবং বেআইনি বেটিং সংক্রান্ত অভিযোগে তদন্ত চালু হয় এবং শেষ পর্যন্ত আদালতে তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
এই শাস্তি ডাম্বুলা থান্ডার্সের পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে। দলটি এখনো লিগের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে মালিকের আইনি সমস্যার কারণে আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
শ্রীলঙ্কা ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্নীতি বিরোধী নীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, কোনো দল বা ব্যক্তির ওপর আইনগত শাস্তি না থাকলে ক্রীড়া ন্যায়বিচার বজায় রাখা কঠিন।
এই রায়ের পর, এলপিএল পরিচালনা কমিটি লিগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার কথা জানিয়েছে। তারা বলেছে, সকল দলকে কঠোর মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এবং কোনো ধরনের জুয়া বা ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না।
শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের আগামী সিজনে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপের প্রভাব দেখা যাবে। ক্রীড়া প্রেমিক ও স্পন্সররা এখনো লিগের সুষ্ঠু পরিচালনা ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।
ম্যাচ‑ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ক্রীড়া জগতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে চায়, এবং তামিম রহমানের মামলা এই নীতির বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



