দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাংক, শেয়ারবাজার ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইপিও ও বোনাস শেয়ার জালিয়াতি সংক্রান্ত ১২,২০০ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে ১০টি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্মের নথি সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে।
কমিশনের মতে, এই জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে বড় পরিমাণে অবৈধ অর্থ প্রবাহিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পি.কে. হালদার, এস. আলম, সালমান এফ. রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে নিরীক্ষকদের জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন আজ (বুধবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানালেন, তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ফার্মগুলো থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হবে।
তিন সদস্যের তদন্ত দলকে দুদকের উপপরিচালক এ.কে.এম. মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে। দলের অন্যান্য সদস্য হিসেবে সহকারী পরিচালক মো. ইকরাম হোসেন জেনসন এবং উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ নিযুক্ত হয়েছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ’ (আইসিএবি) এর প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ বলে উল্লেখ করে ১০টি সিএ ফার্মের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বরসহ সম্পূর্ণ তথ্য ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রদান করার অনুরোধ করা হয়েছে।
আইসিএবির প্রেসিডেন্ট এন.কে. এ. মবিনকে চিঠি প্রাপ্তির পর পরই ফোনে জানাতে বলা হয়েছে, তবে তিনি এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানাতে বাকি রেখেছেন।
দুদকের চিঠিতে উল্লেখিত ১০টি সিএ ফার্মের তালিকা নিম্নরূপ: একনাবিন, এ কাশেম অ্যান্ড কোম্পানি, রহমান রহমান হক, হোদা ভাসী অ্যান্ড কোম্পানি, এম. জে. আবেদিন অ্যান্ড কোম্পানি, ম্যাবস অ্যান্ড পার্টনারস, হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোম্পানি, খান এহান শাফির রহমান অ্যান্ড কোম্পানি, সিনাকি অ্যান্ড কোম্পানি এবং এম. এম. রহমান অ্যান্ড কোম্পানি।
এই তদন্তের ফলে আর্থিক বাজারে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুদক কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। আইপিও ও বোনাস শেয়ার লেনদেনে জালিয়াতি ধরা পড়লে শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা কমে যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার মূল্যে চাপ পড়তে পারে।
অতএব, সংশ্লিষ্ট সিএ ফার্মগুলোকে দ্রুত তথ্য সরবরাহ না করলে আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে এবং আর্থিক সেক্টরে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে। এই ধরণের তদন্ত বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে।



