২০ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবর্তন করা হয়। এই পদক্ষেপের পেছনে কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানিয়ে দেন, বর্তমান সময়ে কোনো নিরাপত্তা হুমকি চিহ্নিত হয়নি এবং প্রত্যাহারটি কোনো নির্দিষ্ট সংকেতের অংশ নয়।
মো. তৌহিদ হোসেনের মতে, ভারতীয় কূটনীতিকের পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো নিরাপত্তা ভিত্তিক কারণ পাওয়া যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, তবে সংকেত যে কী, তা একেবারেই বুঝতে পারছি না” এবং এটিকে সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাছাড়া, যদি ভারতীয় কূটনীতিকরা তাদের পরিবারকে দেশে ফেরত নিতে চান, তবে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেখানে সরকারি কর্মকর্তা বা তাদের পরিবারকে সরাসরি কোনো ঝুঁকির মুখে দেখা যায়। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত এ রকম কিছু ঘটেনি” এবং এ ধরনের প্রত্যাহারকে কোনো নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন। যদিও কিছু বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন, তৌহিদ হোসেন তা স্বীকার করেন না এবং কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়ে গেছে, তিনি উল্লেখ করেন। পূর্বের নির্বাচনী চক্রের তুলনায় সংঘর্ষের মাত্রা বাড়লেও, তা কোনো নিরাপত্তা‑সংকটের দিকে নিয়ে যায়নি। “অতীতের নির্বাচনকালীন সময়ের তুলনায় সংঘর্ষ বেশি হচ্ছে, আমার তো সেটা মনে হচ্ছে না” বলে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত কোনো বিশেষ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা না থাকায় তা উল্লেখ করেন।
ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, মো. তৌহিদ হোসেন জানান, দূতাবাস থেকে কোনো নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত উদ্বেগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই, এই প্রত্যাহারকে নিরাপত্তা‑সংকটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায় না। তিনি আরও বলেন, “তারা কোনো নিরাপত্তা‑উদ্বেগের কথা জানায়নি” এবং এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছেন, তবে সরকার স্পষ্ট করে বলেছে যে কোনো নিরাপত্তা‑সংকটের কারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের প্রত্যাহার হয়, তা স্বাভাবিকভাবে কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুসারে পরিচালিত হবে এবং নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ না থাকলে তা দ্রুত সম্পন্ন হবে।
সারসংক্ষেপে, ভারতীয় কূটনীতিকের পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবে নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ বা সংকেতের স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য অনুসারে, এই পদক্ষেপটি সম্পূর্ণভাবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশ সরকার কোনো বাধা আরোপ করেনি। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়।



