23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যশহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুতে নার্সের সাসপেনশন

শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুতে নার্সের সাসপেনশন

শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি শিশুর মৃত্যুর পর, সংশ্লিষ্ট নার্সকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনাটি গতকাল ঘটেছে, যেখানে সাত বছর বয়সী এক মেয়ে হস্তশল্যচিকিৎসার আগে ভুল ওষুধের ইনজেকশন গ্রহণ করে মারা যায়।

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ শেহাব উদ্দিন জানান, সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিনকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে লিখিত অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

মৃত শিশুটি রাজবাড়ি সদর থেকে আসা উম্মে হাবিবা, যিনি তিন বছর বয়সে বৈদ্যুতিক শক থেকে হাতের সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবার ১৭ জানুয়ারি তার হাতের শল্যচিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করায়।

শল্যচিকিৎসা কাজটি মঙ্গলবার সকাল দশটায় নির্ধারিত ছিল। তবে অপারেশনের আগে নার্সের দেওয়া একটি ইনজেকশন, যা অ্যানেস্থেসিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়, শিশুটিকে দশ মিনিটের মধ্যে অচেতন করে দেয়।

অচেতন হওয়ার পর শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যায় পড়ে এবং অপারেশন শুরু হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করে। হাসপাতালের কর্মীরা ঘটনাটির সঠিক কারণ নির্ধারণে তৎপর হলেও, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ভুল ওষুধের ইনজেকশনই মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শের-ই-বাংলা নগর পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইন-চার্জ মনিরুজ্জামান মনির জানান, পরিবারের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর কোনো অটোপসি না করে মৃতদেহটি সরাসরি পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদ এখন কমিটির তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতি বছর লক্ষাধিক রোগী সেবা পায়। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নীতি ও মানদণ্ড নিয়মিত আপডেট করা হয়।

শিশু রোগীর অ্যানেস্থেসিয়া প্রদান করার সময় সাধারণত দুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়; প্রথমে ওষুধের নাম ও ডোজ রেকর্ডে নথিভুক্ত করা হয়, এরপর ডাক্তার ও নার্সের সম্মিলিত স্বাক্ষর নিশ্চিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারণ ও সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে, এবং এমন ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত ও সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

পরিবারের মুখে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে; তারা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে শিশুর হাতের সমস্যার জন্য বহুবার চিকিৎসা খোঁজার কথা জানিয়েছে। শিশুর দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার সমাধানে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছিল।

অটোপসি না করার সিদ্ধান্ত পরিবারিক অনুরোধের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যদিও সাধারণত অজানা কারণের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পোস্ট-মর্টেম পরীক্ষা করা হয়। এই ক্ষেত্রে পরিবারকে যথাযথ তথ্য প্রদান ও সমর্থন দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতাল প্রশাসন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কর্মী প্রশিক্ষণ, ওষুধের লেবেলিং সিস্টেম উন্নয়ন এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

এই ধরনের চিকিৎসা সংক্রান্ত ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালগুলোকে রোগীর ওষুধের যাচাই প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। রোগী ও পরিবারকে নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments