ইলেকশন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বুধবার নির্বাচনী ভবনে মার্কিন দূতাবাসের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়ে দিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি পর্যবেক্ষক দল আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঠাবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আখতার আহমেদ স্পষ্ট করে বললেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো সরকারী দল না পাঠালেও একটি স্বাধীন দল দেশ থেকে আসবে এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা শহরে স্বতন্ত্রভাবে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালাবে। এই দলটি ইসি কর্তৃক তালিকাভুক্ত অবজারভার হিসেবে নয়, বরং স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবে।
স্বাধীন দলের কার্যক্রমের সীমা ও পদ্ধতি সম্পর্কে ইসি তাদেরকে পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আচরণবিধি, লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া এবং পর্যবেক্ষণকালে অনুসরণীয় নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ইসি উল্লেখ করেছে, তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না থেকেও দ্বিতীয়িক তথ্যের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ভোটকেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করে যে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কার্যকর থাকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় প্রায় সাড়ে নয় লাখ নিরাপত্তা কর্মী বিভিন্ন স্তরে কাজ করবেন। এতে পুলিশ, সহায়ক বাহিনী এবং অন্যান্য নির্ধারিত কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যারা ভোটকেন্দ্র, ভোটপত্র পরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা পূর্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছিল। উভয় পক্ষই নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
নির্বাচনের সময় দেশীয় ও বিদেশি মিডিয়ার উপস্থিতি ব্যাপক হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রায় 55,000 দেশীয় সাংবাদিক এবং 500 বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নেবে। এ সকল মিডিয়া কর্মীকে ইসি নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে চলতে হবে এবং তাদের কার্যক্রমের ওপর তদারকি করা হবে।
ইসি স্পষ্ট করে বলেছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হলেও তাদেরকে কমিশনের নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলতে হবে। সরকারি পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ইসির নীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিদের সীমিত করা এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণকে উৎসাহিত করার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে; ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটকেন্দ্রের লজিস্টিক্স এবং স্বচ্ছ ভোটদান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইসি সকল অংশগ্রহণকারীকে ন্যায়সঙ্গত ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের ফলাফলকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। ভবিষ্যতে ইসি আরও স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে।



