তিন বছর বয়সী মিসবাহ নামের শিশুটি চট্টগ্রাম জেলার রাওজান উপজেলার জয়নগর গ্রামে তার বাড়ির পাশে অবস্থিত টিউব‑ওয়েল গর্তে পড়ে গিয়েছে। ঘটনাটি বিকেল প্রায় ৪টায় ঘটেছে এবং গর্তের গভীরতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। রাওজান থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ এবং ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় বাসিন্দারা সমন্বিতভাবে শিশুটিকে তোলার চেষ্টা করছেন।
গর্তটি কাদালপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড ৭, জয়নগর গ্রামে অবস্থিত এবং স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে যে শিশুটি তার বাড়ির কাছাকাছি গর্তে পড়ে। রাওজান থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. সাযেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রস্তুতি জানিয়ে বলেছেন, “আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে, গর্তের গভীরতা এখনও অজানা”। গর্তের প্রকৃত গভীরতা ও শিশুর পড়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন।
পুলিশের মতে, শিশুটি কীভাবে গর্তে পড়ে গেল তা এখনও পরিষ্কার নয়; তবে গর্তের আশেপাশে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে রাওজান থানা দল গর্তের চারপাশে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুতই উদ্ধার কাজে হাত বাড়িয়ে দেয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোক বাঁশের দণ্ড ব্যবহার করে শিশুটিকে গর্তের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করছে। ভিডিওতে একটি তরুণের কণ্ঠ শোনা যায়, “ধরো, ধরা রাখো” বলে শিশুকে বাঁশে ধরতে বলছে। এই স্বেচ্ছাসেবী প্রচেষ্টা যদিও সীমিত, তবু শিশুটির নিরাপদে বের হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
ফায়ার সার্ভিসের দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠিয়েছে। তারা গর্তের গঠন বিশ্লেষণ করে নিরাপদে শিশুটিকে তোলার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণের চেষ্টা করছে। গর্তের গভীরতা ও প্রস্থের ওপর নির্ভর করে বিশেষ রেসকিউ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হতে পারে, তবে বর্তমানে স্থানীয় সম্পদ ও সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পুলিশের তদন্ত চলাকালে স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়কে গর্তের আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় চলাচল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গর্তের চারপাশে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সাময়িকভাবে বেড়া ও সতর্কতা চিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা শিশু দুর্ঘটনায় না পড়ে।
এই মুহূর্তে মিসবাহের অবস্থা সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি; তবে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুততম সময়ে শিশুটিকে নিরাপদে বের করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ঘটনা সংক্রান্ত নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে।



