ইকুয়েডরের কূটনৈতিক মিশন মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের প্রচেষ্টা রোধে কনসুলার কর্মীরা হস্তক্ষেপ করেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ১১ টায় (গ্রীনউইচ মান ১৭ টা) ঘটেছে এবং কনসুলের ভিতরে থাকা ইকুয়েডরীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কনসুলার কর্মীরা দরজা বন্ধ করেন।
ইকুয়েডরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার এই পদক্ষেপকে কঠোরভাবে নিন্দা জানায় এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কনসুলের প্রবেশের অনুমতি কনসুলের প্রধানের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া দেওয়া যায় না, এবং এই ক্ষেত্রে কোনো সম্মতি প্রদান করা হয়নি।
ভিয়েনা কনসুলার সম্পর্ক চুক্তি (১৯৬৩) অনুসারে, কনসুলের ভবনকে “অবিচ্ছিন্ন” হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং হোস্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে কনসুলের কাজের স্থানগুলোতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অধিকার নেই। চুক্তিতে উল্লেখ আছে যে জরুরি পরিস্থিতি, যেমন অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো বিপর্যয়, যেখানে দ্রুত সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে সীমিত অনুমতি ধরা যেতে পারে, তবে এই ঘটনার কোন প্রাসঙ্গিক জরুরি অবস্থা রিপোর্ট করা হয়নি।
ইকুয়েডোর মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কনসুলের এক কর্মকর্তা তৎক্ষণাৎ দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে ICE এজেন্টকে জানিয়ে দেন, “এটি কনসুল, আপনার প্রবেশের অনুমতি নেই”। এজেন্টের উত্তরে তিনি হুমকি দেন, “যদি আপনি আমাকে স্পর্শ করেন, আমি আপনাকে ধরব”। এরপর কনসুলের কর্মকর্তা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “এটি বিদেশী সরকারের অফিস, আপনি এখানে প্রবেশ করতে পারবেন না” এবং দরজা বন্ধ করে দেন।
এই ঘটনা ঘটার কয়েক দিন আগে, মিনিয়াপোলিসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বিরোধে প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সংস্থার কর্মী অ্যালেক্স প্রেট্টি নামের একজন তীব্র পরিচর্যা নার্সকে গুলি করে হত্যা করে। তার মৃত্যুর পর শহরে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, যা কনসুলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট, যিনি ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনার পর কূটনৈতিক চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, কনসুলের নিরাপত্তা লঙ্ঘন কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতির প্রয়োগে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।
অনুরূপ কূটনৈতিক সংঘাতের উদাহরণ হিসেবে ২০১৯ সালে তুরস্কের কনসুলে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন গোয়েন্দা কর্মী প্রবেশের প্রচেষ্টা এবং ২০২১ সালে রাশিয়ার কনসুলে চীনা নিরাপত্তা কর্মীর অনুপ্রবেশের ঘটনা উল্লেখ করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ভিয়েনা চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে অভিযোগ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তুলে ধরেছে।
ইকুয়েডর সরকার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়টি সমাধানের দাবি জানাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে কনসুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সংক্ষেপে, মিনিয়াপোলিসে ইকুয়েডর কনসুলে ICE এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের প্রচেষ্টা কনসুলার কর্মীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে ইকুয়েডর সরকার নিন্দা জানিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মাধ্যমে সমাধান চাচ্ছে। এই ঘটনা কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োগের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে।



