খুলনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের শেষ দুই সপ্তাহে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের ওপর এবং সমাবেশে হিংসাত্মক আক্রমণ বাড়ছে, যা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে বিপন্ন করতে পারে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, তার দল কোনো উস্কানির পেছনে নেই, তবে বিরোধী দলের কিছু সেক্টর সন্ত্রাসী কৌশল ব্যবহার করে হুমকি ও আক্রমণ চালাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে নারী কর্মীদের মিটিংয়ে আক্রমণের ঘটনা তুলে ধরে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ১৫ দিন আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর হুমকি বাড়ছে এবং এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, অবৈধ অস্ত্রের তফসিল করে আইনের আওতায় আনা না হলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিপক্ষের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা তিনি মিথ্যা বলে খণ্ডন করেন। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি হলেও, বিরোধীরা ৫০ কোটি মানুষকে কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, যা তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল বলে সমালোচনা করেন।
গোলাম পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে যারা নারী ও পরিবারকে হুমকি দেয়, ক্ষমতায় গিয়ে তারা কীভাবে আচরণ করবে তা এখনই স্পষ্ট হওয়া দরকার। তিনি এ বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।
সেই দিন সকালে চুকনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালান এবং লিফলেট বিতরণ করেন। তার দলীয় কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নির্বাচনের গুরুত্ব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা নির্বাচনী হিংসা ও ভয় দেখানোর অভিযোগের মুখে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
গোলাম পরওয়ারের এই সতর্কতা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চাহিদা স্পষ্ট করে দেয়। যদি সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে যদি হিংসা ও হুমকি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করে নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
এই গণসংযোগের পর গোলাম পরওয়ারের প্রচারণা অব্যাহত থাকবে, এবং তিনি নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় দাবি করবেন।



