লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নকল সার বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে তার দোকান থেকে ৩১ বস্তা নকল সার জব্দ করা হয়।
অভিযানটি বুধবার দুপুরে রেজিস্ট্রি অফিসের সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন আদিতমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম, যিনি স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেন।
কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকরা ব্যবসায়ী আবদুর রহমানের নকল ও ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগ তুলে আসছিলেন। তিনি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানের পর সার মজুদ ও বিক্রির অবৈধতা নিশ্চিত করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদালত সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৭(১) লঙ্ঘনের জন্য আবদুর রহমানকে জরিমানা আরোপ করে।
জব্দকৃত ৩১ বস্তা নকল সারের পরিমাণ ও প্রকারের বিশদ তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে স্থানীয় কৃষকরা এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে নকল সারের কারণে ফসলের ফলন হ্রাস ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছিলেন।
আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, নকল সারের বাজারে প্রবেশ রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।
সহকারী কমিশনার আজিজা বেগমও একই রকম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃষকের ক্ষতি রোধে নকল সার বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
অভিযানের পর স্থানীয় কৃষক সমিতি নেতারা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জানান, নকল সারের ব্যবহার কমে ফসলের গুণগত মান ও উৎপাদন বাড়বে। তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে কৃষি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
প্রশাসনিক দিক থেকে, ভ্রাম্যমাণ আদালত নকল সারের মজুদ, বিক্রয় এবং বিতরণে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা নিশ্চিত করেছে। আইন অনুসারে, নকল সার বিক্রি করা ব্যবসায়ীকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ব্যবসা বন্ধের আদেশ দেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনার পর, আদিতমারী উপজেলার রেজিস্ট্রি অফিসের আশেপাশে নকল সারের সরবরাহ চেইন ভাঙার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও কৃষি বিভাগ সমন্বয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালু রাখা হবে।
সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুসারে নকল সারের উৎপাদন, মজুদ, বিক্রয় ও বিতরণ নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা, ব্যবসা বন্ধ এবং কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। আদালত এই ধারার ভিত্তিতে জরিমানা আরোপ করেছে।
সারসংক্ষেপে, আদিতমারী উপজেলায় নকল সার বিক্রির বিরুদ্ধে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও সারের বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন রোধে আরও তীব্র নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।



