সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির সময়, নাগরিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোকে কঠোর নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং সংযম বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। তিনি পটুয়াখালী ও খুলনা দুইটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং “সিভিল পাওয়ারকে সহায়তা” শর্তে কাজ করা সৈন্যদের তদারকি করেন।
পটুয়াখালীতে গিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা অবস্থা পর্যালোচনা করেন, যেখানে তিনি সরাসরি মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর কর্মীদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করেন। তিনি现场 পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় অপারেশনাল নির্দেশনা প্রদান করেন এবং নাগরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য মতবিনিময় করেন।
সেনাবাহিনীর কর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি, জেনারেল জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পটুয়াখালী ডেপুটি কমিশনারের কনফারেন্স রুমে একটি সমন্বয় সভা আহ্বান করেন। সভায় উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসক, এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এই সভায় প্রধানত আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনের সময় শৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। জেনারেল জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং বৈধ হতে হবে, এজন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
খুলনা জেলায় একই রকম একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে উচ্চপদস্থ সেনাবাহিনীর কমান্ডার, জেলা প্রশাসক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভার বিষয়বস্তু পটুয়াখালীতে আলোচিত বিষয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে খুলনা অঞ্চলের বিশেষ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ওপরও আলোকপাত করা হয়।
দুইটি সভায় উভয়ই সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ, রেঞ্জার এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মিডিয়া প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যাতে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা যায়।
সামরিক ও নাগরিক প্রশাসনের এই সমন্বয়মূলক উদ্যোগের লক্ষ্য হল নির্বাচনের পূর্বে সম্ভাব্য অশান্তি ও হিংসা রোধ করা, পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনী নাগরিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কাজ করার সময় কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না রেখে কাজ করবে।
এ ধরনের নির্দেশনা ও সমন্বয় সভা নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করে। বিশেষ করে পটুয়াখালী ও খুলনা মতো নির্বাচনীভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপগুলোকে নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও স্বাগত জানিয়েছে, কারণ এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো অনিয়ম বা হস্তক্ষেপ রোধে এই ধরনের কঠোর নির্দেশনা প্রয়োজনীয় বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নির্দেশনা এবং পটুয়াখালী ও খুলনা জেলায় অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভাগুলো দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করেছে। সেনাবাহিনীর এই সক্রিয় ভূমিকা নির্বাচনের সময় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে।



