ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ একটি পোস্ট প্রকাশ করে ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিকে পুনরায় শীর্ষে আনলে মার্কিন সরকার সব ধরণের সহযোগিতা বন্ধ করার ইঙ্গিত দেন। পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মালিকিকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া ইরাকের জন্য একটি গুরুতর ভুল হবে এবং তা দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মালিকির পূর্ব শাসনামলে ইরাক চরম দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ডুবে গিয়েছিল। তিনি অতীতের সেই সময়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বর্তমান রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেছেন।
নুরি আল-মালিকি ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের শীর্ষে ছিলেন, যার সময়কালটি বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় চিহ্নিত ছিল। ঐ সময়ে দেশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি পায় এবং মানবিক সংকট তীব্রতর হয়। ট্রাম্পের মন্তব্যে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে পুনরায় উল্লেখ করে বর্তমান সময়ে একই নীতি পুনরায় গ্রহণের সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরাকের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ইরান-সমর্থিত শিয়া দলগুলোর জোট নুরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি ইরাকের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানীয় প্রভাবকে শক্তিশালী করার এক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা এই জোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হয়েছে।
ট্রাম্পের পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি মালিকি পুনরায় শীর্ষে আসেন, তবে মার্কিন সরকার ইরাকের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা স্থগিত করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে ইরাকের নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির ফলে এই সহায়তা প্রোগ্রামগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা ইরাকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করতে পারে। বিশেষ করে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলোতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরাকের সরকারী সূত্রগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতি তৎক্ষণাৎ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতাকে প্রভাবিত করতে পারে। নীতি নির্ধারকরা এখনো সিদ্ধান্তের পরিণতি মূল্যায়ন করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরাকের শিয়া জোটের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি নুরি আল-মালিকিকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিশ্চিত করে, তবে মার্কিন সরকার থেকে সম্ভাব্য আর্থিক ও সামরিক সহায়তা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে ইরাককে বিকল্প তহবিলের উৎস বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুসন্ধান করতে হতে পারে।
অবশেষে, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ইরাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরাকের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং মার্কিন সরকারের প্রতিক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। এই প্রেক্ষাপটে ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।



