ঢাকায় আজ অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উল্লেখ করেন, বড় শিল্পখাতের জন্য প্রণোদনা প্রদান সহজ, তবে কৃষকদের জন্য একই ব্যবস্থা নিতে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, শিল্পপতি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধে দেরি করলেও, কৃষকরা ক্রেডিট পেতে সমস্যার সম্মুখীন হন।
উপদেষ্টা জানান, শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা মাত্র ২ শতাংশ সুদে ঋণ পেতে পারেন এবং বিভিন্ন রকমের ছাড় ও সুবিধা পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, কৃষকরা দেশের মেরুদণ্ড হলেও, তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং বাজারে সঠিক সমর্থন না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে বাধ্য হন। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায্য মূল্য না পেলে অনেক কৃষক ফসল ত্যাগ করে ফেলতে বাধ্য হন।
তিনি আরও বলেন, কখনও কখনও সরকার বা মিডিয়া কয়েকদিনের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করে, তবে বাস্তবে ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনা প্রদান করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হয়। এই ধরণের অবস্থা অব্যাহত থাকলে কৃষকরা টিকে থাকা কঠিন হবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করা অপরিহার্য।
গত মৌসুমে আলু চাষীদের মূল্য পতনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, সরকার এই বছরও ত্বরিত নগদ প্রণোদনা প্রদান করতে সংগ্রাম করছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য আলু চাষীদের ক্ষতিপূরণে অতিরিক্ত ১১০ কোটি টাকা নগদ প্রণোদনা এবং পূর্বে বরাদ্দ ১৫০ কোটি টাকার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়।
উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ২৫ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে শেষ মৌসুমে অতিরিক্ত আলু জমা হওয়ায় সরকার আলু চাষীদের জন্য প্রণোদনা প্রদান পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, এই প্রণোদনা কৃষকদের ক্ষতি পূরণে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।
কৃষি উপদেষ্টার মন্তব্যের পর কর্মশালায় উপস্থিত শিল্প ও ব্যাংক প্রতিনিধিরা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বললেন, শিল্পখাতের জন্য আর্থিক সহায়তা সহজে প্রদান করা হয়, যা দেশের মোট উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক। তবে তারা স্বীকার করেন, কৃষকদের জন্য ঋণ ও প্রণোদনা প্রক্রিয়ায় কিছু কাঠামোগত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আলু চাষীদের জন্য নগদ প্রণোদনা ও সাবসিডি একত্রে ২৬০ কোটি টাকার বেশি হবে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সঙ্কট লাঘবে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, প্রণোদনা প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি, যাতে কৃষকরা সময়মতো সহায়তা পেতে পারে।
এই আলোচনার পর কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিরা কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ এবং ঋণ সুলভ করার প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, সরকার যদি কৃষকদের জন্য সমন্বিত নীতি তৈরি করে, তবে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
উপদেষ্টা শেষ করে বলেন, কৃষকদের সমস্যার সমাধান না হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেমে যাবে, কারণ কৃষি সেক্টরই দেশের ভিত্তি। তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে প্রদান করে তাদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে হবে।



