ইউনাইটেড বাংলাদেশ জোটের ঢাকা‑৮ আসনের পার্টি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বুধবার সকাল ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গণসংযোগের মাধ্যমে তার মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার তার প্রচারণা পথে বাধা সৃষ্টির পর থেকে রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা‑৮ আসনে ধারাবাহিকভাবে চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন, এই সমস্যার মূল সমাধান অবকাঠামো পরিবর্তনেই, নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর বদলে কাঠামোগত সংস্কার দরকার।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি না, বরং বিদ্যমান সিস্টেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি”। এই বক্তব্যের পেছনে তিনি গতকাল তার দলের সদস্যদের সঙ্গে রেলস্টেশন থেকে বেরিয়ে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময়ের ঘটনাকে উল্লেখ করেন।
গত মঙ্গলবারের ঘটনা অনুযায়ী, পাটওয়ারীর প্রচার দলকে পথে বাধা দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, তার দল কোনো প্রকার উস্কানি দেয়নি এবং কোনো বিরোধী নেতার পায়ে চাপ দেয়নি। বরং, তারা স্বাভাবিকভাবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এগিয়ে গিয়েছিল, ফলে বিরোধী দলের সমর্থকরা বাধা সৃষ্টি করে।
পাটওয়ারী আরও বলেন, “আমরা সহানুভূতির রাজনীতি করি না”। তিনি যুক্তি দেন, যদি সহানুভূতির ভিত্তিতে রাজনীতি করা হতো, তবে তারা রাস্তায় শুয়ে থেকে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তুলনা করে নিজের দলকে সক্রিয় ও বাস্তববাদী হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।
প্রতিবাদী দলের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানান, গতকাল রেলস্টেশনের আশেপাশে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল। তারা উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রচারকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে।
পাটওয়ারীর এই মন্তব্যের পর, তার নির্বাচনী প্রচার দল দ্রুত রেলস্টেশন থেকে বেরিয়ে এসে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যায়। তিনি বলেন, “যদি সিস্টেম পরিবর্তন না করা হয়, তবে নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়”।
এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঢাকা‑৮ আসন দেশের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পাটওয়ারীর সিস্টেমের বিরুদ্ধে অবস্থান তার দলের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি পাটওয়ারীর দল এই রকম র্যাডিকাল পরিবর্তনের দাবি চালিয়ে যায়, তবে তা ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে, বিদ্যমান শাসন কাঠামোর সমর্থকরা এই দাবিকে অপ্রয়োজনীয় এবং অস্থিতিশীল হিসেবে সমালোচনা করতে পারেন।
নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব বাড়তে পারে, কারণ ভোটাররা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। পাটওয়ারীর দল আশা করে, সিস্টেমের পরিবর্তনের দাবি দিয়ে তারা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় আলাদা অবস্থান নিতে পারবে।
অবশেষে, পাটওয়ারীর মন্তব্যের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তিনি তার দলকে আরও সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সিস্টেমের পরিবর্তন না হলে, আমাদের প্রচার কার্যক্রমে বাধা অব্যাহত থাকবে”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেন।
সারসংক্ষেপে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে করা বক্তব্যে তিনি সিস্টেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, নির্বাচনী বাধা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মূল কারণ অবকাঠামো পরিবর্তন বলে দাবি করেন এবং ভবিষ্যতে তার দলের প্রচার কৌশলকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।



