মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান প্রস্তুত করার গোপন পরিকল্পনা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন থেকে ইসরাইলের টেলাভিভি চ্যানেল ১৪-এ প্রেরিত একটি গোপন বার্তায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বার্তাটি ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের পূর্বাভাস এবং তার সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইসরাইলকে জানিয়েছেন যে, পরিকল্পিত সামরিক কার্যক্রমের সব ধাপ দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। এই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা ও লজিস্টিক্সের দ্রুততা নির্দেশ করে।
মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলকে জানিয়েছে যে, প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যক্রম শুরু করার সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে। এই শর্তটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নমনীয়তা এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের ক্ষমতা তুলে ধরে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাত্ক্ষণিক হামলা পরিকল্পনা না থাকায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেননি। যদিও গোপন বার্তায় ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উল্লেখ আছে, তবে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এই অবস্থান অঞ্চলীয় কূটনৈতিক আলোচনার সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যীয় মোতায়েনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেস, বিমানবন্দর ও নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলি পূর্বে না দেখা মাত্রায় সম্প্রসারিত হয়েছে। এই বিস্তৃত মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রকে বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে।
পেন্টাগন এই পদক্ষেপকে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ষণশীলতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের শক্তি বৃদ্ধি ইরানের আক্রমণাত্মক আচরণকে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার কৌশলগত উপাদান হিসেবেও কাজ করে।
একজন সামরিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “মার্কিন বাহিনীর বর্তমান অবস্থান গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, যা ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপকে সীমিত করতে পারে।” এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এবং ইরানের কৌশলগত গণনা উভয়ের উপর প্রভাব ফেলে।
ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পেন্টাগন এখনও স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেনি, তবে ইরানকে সম্ভাব্য আক্রমণের মুখে কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্প বিবেচনা করতে হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরান সরকার এই গোপন বার্তাকে স্বীকার করেনি, তবে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই গোপন সমন্বয় মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলো এই উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় রাখছে।
ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা বিভাগ উভয়ই এই গোপন বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। উভয় পক্ষই ইরানের সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় যৌথ কৌশল গড়ে তোলার জন্য তথ্য শেয়ার করছে। এই সমন্বয় ভবিষ্যতে কোনো সামরিক পদক্ষেপের পূর্বে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ বাড়াতে পারে।
অবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত সামরিক উপস্থিতি এবং ইসরাইলের কৌশলগত প্রস্তুতি ইরানের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে। ইরানকে এখন তার কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি কমে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি এবং কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের গুরুত্ব বাড়বে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোপন বার্তা ইরানের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির প্রস্তুতি এবং সময়সীমা উন্মোচন করেছে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যীয় শক্তি বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক জটিলতা বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বা পরিবর্তন অঞ্চলীয় নিরাপত্তা গতিবিধি নির্ধারণ করবে।



