মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ফ্রান্সের আলপসের কুরশেভেইল স্কি রিসোর্টে অবস্থিত হোটেল দে গ্রান্দেজ অ্যাল্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। হোটেলটি পাঁচ-তারকা মানের হওয়ায় সারা বিশ্বের পর্যটকরা সেখানে অবস্থান করছিলেন, তবে কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, ফলে বড় কোনো ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল জুড়ে থাকা প্রায় ৯০ জন অতিথি ও কর্মীকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়। নিকটবর্তী লু লেনা হোটেলে প্রায় ২০০ জন অতিরিক্ত পর্যটক ছিলেন, যাদেরও পরের দিন সকালে সরিয়ে নেওয়া হয়। উভয় হোটেলই অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে, এবং অতিথিরা আশেপাশের অন্যান্য হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন।
ফায়ার ফাইটিং টিমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য; ১৩১ জন দমকলকর্মীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং অগ্নি নিভাতে বহু ঘণ্টা কাজ করে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ এখনও তদন্তাধীন, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী চিলেকোঠা (চিমনি) থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকলকর্মীরা দ্রুত চিমনি ও হোটেলের কাঠামো থেকে আগুন দূর করতে সক্ষম হয়।
সাভোয়া অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঘটনাটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলছেন, পর্যটন মৌসুমের শুরুর আগে এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হোটেল কর্মী ও অতিথিরা স্থানীয় হোটেল ও গৃহস্থালিতে সাময়িকভাবে বসবাস করছেন, এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যটন নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত ও প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইউরোপীয় পর্যটন সংস্থা (ETC) এই ঘটনার পর ফ্রান্সের স্কি রিসোর্টে নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃপর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আলপসের শীতকালীন পর্যটন শিল্পের জন্য এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষ করে উচ্চমানের হোটেলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি ভোক্তাদের চাহিদা বাড়ছে। তারা পরামর্শ দেন, ফরাসি হোটেল শিল্পকে অগ্নি প্রতিরোধক প্রযুক্তি ও জরুরি প্রশিক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডের কয়েক দিন আগে, সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের ক্রঁ-মঁতানা স্কি রিসোর্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৪০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। উভয় ঘটনার সময় শীতকালীন পর্যটন শীর্ষে থাকা, ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থাগুলি নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, আলপস অঞ্চলের সমন্বিত নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সীমান্ত পারাপার পর্যটকদের জন্য একসঙ্গে জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।
স্থানীয় সরকার অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে এবং ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে হোটেল নিরাপত্তা মানদণ্ডে সংশোধনী আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দমকল ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের প্রশংসা করা হলেও, ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য বলে জোর দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের জন্য সতর্কতা স্বরূপ, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।



