ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ বুধবার ঢাকা শহীদ ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) শীঘ্রই চালু হতে যাওয়া ডিজিটাল ও পেপারলেস ব্যবস্থা রোগীর সেবা সহজ, দ্রুত এবং কম খরচে প্রদান করবে।
এই সমঝোতা স্মারক (MoU) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের Aspire to Innovate (এটিইউ) প্রোগ্রামের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
ফয়েজ আহমেদ উল্লেখ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের ফি ও বিলের পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে। ফলে রোগীরা কাউন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে, নগদ বা চেকের বদলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, এজেন্ট ব্যাংকিং অথবা শাখা ব্যাংকিং ব্যবহার করে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সংযুক্তি বিএমইউর ওয়েব পোর্টালকে এটিইউ প্রোগ্রামের একীভূত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’ এর সঙ্গে যুক্ত করবে। একপে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, ফলে রোগীর তথ্য ও আর্থিক লেনদেন একক সিস্টেমে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
ফয়েজ আহমেদ আরও বলেন, পেপারলেস পরিবেশ গড়ে তোলার ফলে রোগীর তথ্য সংরক্ষণ, চিকিৎসা রেকর্ড, গবেষণা ডেটা এবং শিক্ষামূলক উপকরণ সবই ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তরিত হবে। এই পরিবর্তন শিক্ষার্থী, গবেষক এবং চিকিৎসককে দ্রুত তথ্য অ্যাক্সেসের সুবিধা দেবে, যা চিকিৎসা গুণমান ও গবেষণার ফলাফল উন্নত করতে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ এবং ডেন্টাল অনুষদের ডীন ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে রোগীর আর্থিক লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে, ফলে বিলিং ত্রুটি কমে যাবে এবং রোগীর আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, পেপারলেস সিস্টেমের ফলে কাগজের ব্যবহার হ্রাস পাবে, যা পরিবেশের জন্যও উপকারী।
বিএমইউর শিক্ষার্থী ও গবেষকরা এখন থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোর্স ফি, লাইব্রেরি ফি এবং অন্যান্য সেবা সংক্রান্ত অর্থপ্রদান করতে পারবেন। একই সঙ্গে, রোগীরা রোগী আইডি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং প্রেসক্রিপশন ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও শেয়ার করতে পারবেন, যা চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগে সহায়তা করবে।
প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, একপে প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের, ফলে রোগীর তথ্য গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। ভবিষ্যতে এই সিস্টেমটি অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিজিটাল ও পেপারলেস সেবার সূচনা রোগীর জন্য সময় ও অর্থের সাশ্রয় ঘটাবে, পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থার কার্যকারিতা বাড়াবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়।
রোগী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই নতুন পদ্ধতি কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে; তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে, যাতে সবাই সহজে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।



